এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে যে বিষয়গুলো স্মরণ রাখতে হবে।
যারা নতুন, কেবল তাদের জন্য এই পোস্ট। অভিজ্ঞরা ইগনোর করতে পারেন কিংবা আরও তথ্য দিয়ে নতুনদের সাহায্য করতে পারেন।

১. কোন প্লাটফর্ম বা সিএমএস নিবেন?
ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগার, দ্রুপাল, জুমলা কিংবা অন্য যেকোন CMS ব্যবহার করেন না কেন; গুগলের তা যায় আসে না। সুতরাং আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোন একটি সিএমএস বেছে নিন। তবে এডসেন্স পাবলিশারদের কাছে ওয়ার্ডপ্রেস ও ব্লগার সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমি দুটোতেই কাজ করেছি।

২. ১০০% ইউনিক আর্টিকেল লিখুনঃ
১০০% ইউনিক আর্টিকেল লিখুন। আর্টিক্যাল কপি হলে এডসেন্স কখনও পাবেন না। আর্টিকেল গুলো ২৫০+ ওয়ার্ডে লিখুন। তবে আমি ৫০০+ বা ১,০০০+ ওয়ার্ডের উপরে আর্টিক্যাল রাখার পরামর্শ দিবো। অনেকে বলে সাইটে ২০/২৫টি আর্টিক্যাল রাখতে হবে। এইটা সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। এইটা ডিপেন্ড করে আপনি কি ধরনের সাইট নিয়ে কাজ করছেন তার উপর। আর্টিকেলের কোয়ালিটি ঠিক থাকলে ১০/১৫টিই যথেষ্ট।

৩. সাইটে কপিরাইট মুক্ত ছবি ব্যবহার করুনঃ
সাইটে কপিরাইট মুক্ত ছবি ব্যবহার করুন। যদি গুগল থেকে কোন ছবি ব্যবহার করতে চান। তাহলে ব্যবহারের পূর্বে তা সঠিক নিয়মে ইউনিক করে তোলন।

৪. প্রয়োজনীয় পেইজ তৈরী করুনঃ
আপনি যদি এডসেন্স পেতে চান; তাহলে আপনার সাইটে About, Contact, Sitemap ও Privacy নামক পেইজগুলো তৈরী করতেই হবে।

৫. কম্পক্ষে ৫টি লেবেল বা ক্যাটাগরি তৈরী করুনঃ
এই পয়েন্ট-টা নিয়ে হয় তো অনেকেই দ্বিমত পোষণ করতে পারে। তবে এক সময় এইটাকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তবে যারা নতুন তাদের বলবো, আপনারা কোন মতে না গিয়ে অন্যান্য পয়েন্ট গুলোর মতো এইটাকেও গুরুত্ব দিন। এতে আপনাদেরই লাভ হবে।

যাইহোক, আবেদন করার পূর্বে আপনার সাইটে কম্পক্ষে ৫টি লেবেল বা ক্যাটাগরি তৈরী করুন। এবং প্রতিটি লেবেল বা ক্যাটাগরিতে যেন কয়েকটা আর্টিক্যাল থাকে। আপনি একটি আর্টিক্যাল; একাধিক লেবেল বা ক্যাটাগরিতে রাখতে পারেন কোন সমস্যা নেই।

৬. Google-এ Sitemap সাবমিট করুন।
Google Search Console (পূর্ব নাম- Google Webmaster Tool)-এ আপনার সাইটের Sitemap সঠিক ভাবে সাবমিট করুন। এডসেন্সের আবেদনের পূর্বে নিশ্চিত করুন যে, আপনার সাইটের Sitemap ঠিক মতো সাবমিট হয়েছে কিনা। 

৭. Simple Web Design নির্নয় করুনঃ
এডসেন্সে আবেদন করার পূর্বে আপনার ওয়েব সাইটের Simple Web Design/Theme/Template নির্বাচর্ন করুন। যাতে পেইজ তাড়াতাড়ি লোড হয়। বেশি Gorgeous Web Design সাইটকে ভারি করে তোলে। অতিরিক্ত ভারি সাইটে এডসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এই জন্য আপনারা ডিফল্ট থীম বা ট্যাম্প্লেটগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

৮. বাংলা নাকি ইংরেজি ভাষাতে এডসেন্স দেয়?
এখন পর্যন্ত গুগল মোট ৪৫টি (উপ-ভাষাসহ) ভাষাতে এডসেন্স দিয়ে থাকে। এই ৪৫টির মধ্যে বাংলাও অন্তর্ভূক্ত। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ থেকে বাংলা ভাষায় লিখা ব্লগ বা সাইটগুলোতে এডসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং আপনার বাংলা ভাষার ব্লগ/সাইট থাকলেও আপনি এডসেন্স পাবেন কোন সমস্যা নেই।

৯. ডোমেইন/সাইটের বয়স কত হতে হবে?
শুধু ব্লগস্পট সাব ডোমেইনের জন্য একটা সাইটের বয়স মিনিমাম এক মাস হতে হয়। তবে টপলেবের ডোমেইন হইলে কোন সীমা নাই। যেদিন ডোমেন কিনবেন, ঐদিনই এপলাই করতে পারবেন যদি এডসেন্স-এর সকল শর্ত পুরণ হয়।

১০. সাইটের জন্য ফ্রি নাকি পেইড হোস্টিং নিতে হবে?
সাইটের জন্য অবশ্যই পেইড হোস্টিং নিতে হবে। যারা ফ্রি হোস্টিং সর্বরাহ করে তাদের হোস্টিং নেওয়া যাবে না। ফ্রি হোস্টিং-এ কখনও এডসেন্স পাওয়া যায় না। তবে হোস্টিং প্রভাইডারদের কাছ থেকে যদি কোন ভাবে হোস্টিং ফ্রি বা অফারে পেয়ে থাকেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। গুগল কর্তৃক ব্লগারের ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন। এডসেন্স এইটা সাপোর্ট করে।

১১. ব্লগস্পটের সাব-ডোমেইনে কি এডসেন্স দেয়?
নিয়ম অনুযয়ী ব্লগস্পটের সাব ডোমেইনে এখনও এডসেন্স দেয়। এই সাব-ডোমেইন ব্যবহার করে কেউ এডসেন্স পায়, আবার কেউ এডসেন্স পায় না। মোট কথা, ব্লগস্পটের সাব ডোমেইন দিয়ে এডসেন্স পাওয়াটা তুলনা মূলক একটু কঠিন; তবে অসম্ভব নয়। সুতরাং আমার পরামর্শ হলো ব্লগস্পটের সাব ডোমেইন নিয়ে কাজ না করে, টপলেবেল ডোমেইন কিনে কাজ শুরু করেন।

১২. সাইটে মিনিমাম কত ভিজিটর থাকতে হবে?
আপনি যদি এডসেন্সের সকল শর্ত ১০০% পুরন করে থাকেন, তাহলে সাইটে যদি শূণ্য ভিজিটর থাকে... তবুও আপনি এডসেন্স পাবেন। সুতরাং এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিজিটর কোন ফ্যাক্ট নয়।

উপরের বিষয় গুলো যদি আপনি ঠিক মতো অনুসরণ করেন। তাহলে এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রকার সমস্যা হবে না। যাইহোক, যদি আরও কোন কিছু জানতে প্রয়োজন হয়, তাহলে কমেন্ট করতে পারেন। 

বিঃদ্রঃ বানান কিংবা অসর্তকতাবশত যদি কোন ভুল তথ্য দিয়ে থাকি, তাহলে ক্ষ
মা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সকলকে!