তাগূত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত



.

তাগুত সম্পর্কে কোর'আনে মোট ৮ টি আয়াত রয়েছে। আমরা যদি এই ৮ টি আয়াত খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ সমস্ত নবী রাসুলদের মিশন সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে জানতে পারবো।এবং এটাও বুঝতে পারবো পুরো ইসলামের ভিক্তিই হলো তাগূত বর্জন ও আল্লাহর প্রতি ইমান আনায়ন এই মুলনীতির উপর।


.


তাগুত নিয়ে কোর'আনের আয়াত -১

.

وَ لَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَ اجۡتَنِبُوا الطَّاغُوۡتَ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ ہَدَی اللّٰہُ وَ مِنۡہُمۡ مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَیۡہِ الضَّلٰلَۃُ ؕ فَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۳۶ 

.

আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং পরিহার কর তাগূতকে। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ কাউকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর অতঃপর দেখ , অস্বীকারকারীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে। (সুরা নাহল -৩৬)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত -২

.

لَاۤ اِکۡرَاہَ فِی الدِّیۡنِ ۟ۙ قَدۡ تَّبَیَّنَ الرُّشۡدُ مِنَ الۡغَیِّ ۚ فَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالطَّاغُوۡتِ وَ یُؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ فَقَدِ اسۡتَمۡسَکَ بِالۡعُرۡوَۃِ الۡوُثۡقٰی ٭ لَا انۡفِصَامَ لَہَا ؕ وَ اللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۲۵۶﴾

.

দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা - ২৫৬)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত: ৩

.

اَللّٰہُ وَلِیُّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۙ یُخۡرِجُہُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ۬ؕ وَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَوۡلِیٰٓـُٔہُمُ الطَّاغُوۡتُ ۙ یُخۡرِجُوۡنَہُمۡ مِّنَ النُّوۡرِ اِلَی الظُّلُمٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۲۵۷﴾٪

.

যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।(সুরা বাকারা -২৫৭)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত :৪

.

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوۡا نَصِیۡبًا مِّنَ الۡکِتٰبِ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡجِبۡتِ وَ الطَّاغُوۡتِ وَ یَقُوۡلُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہٰۤؤُلَآءِ اَہۡدٰی مِنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا سَبِیۡلًا ﴿۵۱﴾

.

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত* ও তাগূতের প্রতি ঈমান আনে এবং কাফিরদেরকে বলে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত। (সুরা নিসা -৫১)


* জিবত الجبتঅর্থ: মূর্তি , প্রতিমা, যাদুকর, ভেলকিবাজ, যাদু, ভেলকি ইত্যাদি।


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত :৫

.

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ یَزۡعُمُوۡنَ اَنَّہُمۡ اٰمَنُوۡا بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّتَحَاکَمُوۡۤا اِلَی الطَّاغُوۡتِ وَ قَدۡ اُمِرُوۡۤا اَنۡ یَّکۡفُرُوۡا بِہٖ ؕ وَ یُرِیۡدُ الشَّیۡطٰنُ اَنۡ یُّضِلَّہُمۡ ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا ﴿۶۰﴾

.


তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা দাবী করে যে, নিশ্চয় তারা ঈমান এনেছে তার উপর, যা নাযিল করা হয়েছে তোমার প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমার পূর্বে। তারা তাগূতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে। আর শয়তান চায় তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে। (সুরা নিসা -৬০)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত :৬

.

قُلۡ ہَلۡ اُنَبِّئُکُمۡ بِشَرٍّ مِّنۡ ذٰلِکَ مَثُوۡبَۃً عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ مَنۡ لَّعَنَہُ اللّٰہُ وَ غَضِبَ عَلَیۡہِ وَ جَعَلَ مِنۡہُمُ الۡقِرَدَۃَ وَ الۡخَنَازِیۡرَ وَ عَبَدَ الطَّاغُوۡتَ ؕ اُولٰٓئِکَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّ اَضَلُّ عَنۡ سَوَآءِ السَّبِیۡلِ ﴿۶۰﴾

.

বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট পরিণতির বিচারে এর চেয়ে মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? যাকে আল্লাহ লা‘নত দিয়েছেন এবং যার উপর তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন? আর যাদের মধ্য থেকে বাঁদর ও শূকর বানিয়েছেন এবং তারা তাগূতের উপাসনা করেছে। তারাই অবস্থানে মন্দ এবং সোজা পথ থেকে সর্বাধিক বিচ্যুত’।( সুরা মায়িদাহ -৬০)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত:- ৭

.

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۚ وَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ الطَّاغُوۡتِ فَقَاتِلُوۡۤا اَوۡلِیَآءَ الشَّیۡطٰنِ ۚ اِنَّ کَیۡدَ الشَّیۡطٰنِ کَانَ ضَعِیۡفًا ﴿٪۷۶﴾

.


যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায়, আর যারা কুফরী করেছে তারা লড়াই করে তাগূতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।(সুরা নিসা -৭৬)


.


তাগুত সম্পর্কে কোর'আনের আয়াত:৮


.

وَ الَّذِیۡنَ اجۡتَنَبُوا الطَّاغُوۡتَ اَنۡ یَّعۡبُدُوۡہَا وَ اَنَابُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ لَہُمُ الۡبُشۡرٰی ۚ فَبَشِّرۡ عِبَادِ ﴿ۙ۱۷﴾

.

আর যারা তাগূতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।( সুরা যুমার -১৭)


.


তাগুত সম্পর্কিত আয়াত গুলো থেকে যা জানতে পারলাম:


.

১)প্রতিটা জাতীর মাঝে রাসুলদের আল্লাহ যে দাওয়াত নিয়ে পাঠিয়েছেন তা হলো: তাগুতকে বর্জন করো এবং আল্লাহর ইবাদত করো। অর্থাৎ তাগুতকে বর্জন করতে বলাই ছিলো সমস্ত নবী রাসুলদের মিশন।

.

২) ইমানের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তাগুতকে বর্জন করা এরপর আল্লাহর প্রতি ইমান আনা। যা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর মুল কথা। লা দ্বারা সমস্ত মিথ্যা ইলাহদের অস্বীকার করা হয় এবং ইল্লাল্লাহ দ্বারা আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ হিসেবে গ্রহন করা হয়। তাই ইমানের পুর্ব শর্ত হলো তাগুতকে বর্জন করা।

.

৩) পুর্বে বিভিন্ন জাতী ইমান আনায়নের পরেও তাগুতকে উপাস্য হিসেবে গ্রহন করে নিয়েছিলো।তাগুত বর্জন না করার কারনে তাদের এই ইমান আল্লাহ বাতিল করে দিয়েছেন।

.

৪) যারা কাফের তাদের অভিভাবক হলো তাগুত। আর ইমানদারদের অভিভাবক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।

.

৫) আল্লাহ তা'আলা তাগুত বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু এরপরেও যারা ইমান আনার পরে তাগুতের কাছে বিচার চায় তাদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করেছেন।

.

৬)তাগুতের পক্ষে যুদ্ধ করে কাফেররা - যারা শয়তানের বন্ধু। আল্লাহর পক্ষে যুদ্ধ করে ইমানদারেরা। আল্লাহ ইমানদারদের এই শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

.

৭) যারা তাগুতকে পরিহার করে এবং আল্লাহর অভিমুুুখী হয় তাদের জন্য সুসংবাদ।


.


@boycottTaghut