ভাই, আমার নামাজ পড়তে ইচ্ছা করছে না, আমাকে একটু সাহায্য করবেন?
___________
-ভাই আপনার ভেতরে যে এই সেন্সটুকু আছে যে, নামায পড়া দরকার সেজন্য আল্লাহর শুকরিয়া। অনেকের মধ্যে সেটাও নেই। ভাই, আপনি যে অবস্থায় তাতে আপনার প্রথম কাজ হলো, প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি। আপনি আপনার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে নামাযটা কন্টিনিউ করুন। এর পাশাপাশি কিছু ভালো বয়ান বা লেকচার শুনতে পারেন। তাহলে আপনার অন্তরটা নরম হবে ও ইবাদাতে মজা আসবে ইনশাআল্লাহ।
._________
-১) আপনার আশেপাশেই নিয়মিত সলাত আদায় করে এমন কমপক্ষে দুইজনকে ওয়াক্ত হলে টেনে হিঁচড়ে মসজিদে নিয়ে যেতে বলুন ইনশাআল্লাহ।

২) বেশি বেশি দ্বীন নিয়ে আলোচনা করুন ইনশাআল্লাহ।

৩) আর বেশি বেশি এই দুয়া পড়ুন ইনশাআল্লাহঃ

"ইয়া মুক্বল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বলবি আ'লা দ্বীনিক"

অর্থঃ হে অন্তরসমূহের নিয়ন্ত্রণকারী, আমার অন্তরকে দ্বীনের উপর স্থির করে দিন।
.
নামাজ পড়তে ইচ্ছা না করার অনেক কারণ থাকতে পারে।
১.অনেকদিন ধরে নামাজ না পড়লে বা ক্রমাগত গুনাহে লিপ্ত থাকলে অন্তরে কাল দাগ পড়তে পড়তে ক্বলব কাল হয়ে যায়।তখন এর মধ্যে আর আলো ঢুকতে পারে না।

২. শয়তান।শয়তান প্রতিনিয়ত আমাদের পিছে লেগে আছে।সে আপনাকে বিভিন্ন ওয়াসওয়াসা দেয়।"এখন পড়ার কি আছে পরে পড়ে নিব,আমি এখন ব্যস্ত,বয়স তো অনেক আছে আস্তে ধীরে নামাজ ধরব" এরকম বহু ওয়াসওয়াসা দিতে পারে।

৩. খারাপ সঙ্গ।হয়তো আপনার আশেপাশে এমন মানুষদের বসবাস যাদের আল্লাহর দরবারে সিজদা দেয়ার সুযোগ হয় না।তারা না নিজেরা নামাজ পড়ে না অন্যদের পড়তে দেয়।

সমাধান স্বরূপ বলতে পারি এর থেকে মুক্তি পেতে ক্বলব পরিষ্কার করা চাই।আল্লাহর কাছে খাস দিলে তওবা করে,গুনাহ্ মাফ চেয়ে নিয়মিত নামাজ শুরু করুন।জোর করে হলেও মসজিদে যান, দেখবেন আস্তে আস্তে সহজ হয়ে যাবে।আর নামাজ পড়তে পারা একটা নিয়ামত।নিজের কপাল রবের উদ্দেশ্যে মাটিতে ঠেকানোর সুযোগ এবং তৃপ্তি সকলে পায় না।অলসতাকে পাত্তা দিবেন না।আজকে থেকে, এখন থেকে শুরু করুন।নিয়ত করুন জীবনে আর নামাজ ছাড়বেন না।
খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করুন।এমন মানুষদের সাহচর্যে যান যারা আল্লাহ্কে ভয় করেন।তাদের সাথে দ্বীনের ব্যাপার নিয়ে, আপনার সমস্যা নিয়ে আলাপ করুন।

আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তা'লা অামাদের আমৃত্যু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে পড়ার তৌফিক দিন।
________
.
-চিন্তা করেন, এটা সেই গর্ত, এখানে আপনি একা থাকবেন।আপনার ভাই বোন বা মা বাবা কেউ থাকবে না। পুরো অন্ধকার একটা জায়গা,আশে পাশে নড়ার জায়গা নেই, মাঝে মাঝে এমন ধাক্কা দিচ্ছে যে শরীর গুড়া হয়ে যাচ্ছে, গায়ের উপর বিষাক্ত সাপ, চোখের উপর বিছাপোকা, যাদের দেখলে আপনি লাফ দেওয়ার কথা-আজ তাদের দেখে কিছুই করতে পারবেন না, আপনাকে রেখে সবাই চলে যাবে। আগুনের কথা নাহয় বাদই দিলাম।আল্লাহর শাস্তি দুনিয়ার চেয়ে অনেক মারাত্মক,তাও দুনিয়া দিয়েই বুঝার চেষ্টা করেন। আর এর মাঝে যদি লক্ষ লক্ষ বছর থাকতে হয়,আপনার দুনিয়ার জীবনের চেয়ে যেটা কত্ত বেশিগুন সময়,সেই শাস্তি কি নিতে পারবেন?
.
_________
-আমি আমার ফ্রেন্ডসার্কেলে যাদেরকে দেখেছি নামাজ বিমুখ হতে, তাদের মধ্যে মূলত কিছু সমস্যা ছিল। যেমনঃ

১) গার্লফ্রেন্ড আছে
২) মুভি দেখে, মিউজিক ভিডিও দেখে, গান শুনে
৩) পর্ণ আসক্ত
৪) দুনিয়াবী কোন বিষয়ে নিজের অজান্তেই চিন্তিত
৫) নিয়্যাত স্থির না থাকা
৬) জাহান্নামের আজাব সম্পর্কে গাফেল
৭) নামাজ না পড়লেও অবশ্যই জান্নাতে যাবে কনফার্ম হয়ে যাওয়া।
৮) রাস্তাঘাটে দৃষ্টি সংযত না রাখা
৯) ঘনঘন মিথ্যা বলা
১০) বেশী খাওয়া, অসময়ে ঘুমানো
১১) দুনিয়াবি ইল্ম অর্জন বেড়ে যাওয়া

এগুলোর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে আশাকরি সালাতে ইচ্ছে বাড়বে। আর বেশী বেশী ইসলামিক লেকচার, পরকাল নিয়ে লেকচার, বই এসব পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সর্বোপরি নিজের ইচ্ছেশক্তি বাড়ান। ইনশা আল্লাহ্‌ কাজে দিবে। :)
.
_________
.
-ভাই এই আয়াতটা স্মরণে রাখেন.. মহান আল্লাহ বলেন, ( ﻳَﻮْﻡَ ﻳُﻜْﺸَﻒُ ﻋَﻦْ ﺳَﺎﻕٍ ﻭَّﻳُﺪْﻋَﻮْﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮْﺩِ ﻓَﻼَ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴْﻌُﻮْﻥ،َ ﺧَﺎﺷِﻌَﺔً ﺃَﺑْﺼَﺎﺭُﻫُﻢْ ﺗَﺮْﻫَﻘُﻬُﻢْ ﺫِﻟَّﺔٌ، ﻭَﻗَﺪْ ﻛَﺎﻧُﻮْﺍ ﻳُﺪْﻋَﻮْﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮْﺩِ ﻭَﻫُﻢْ ﺳَﺎﻟِﻤُﻮْﻥَ ) “ যেদিন পদনালী উন্মুক্ত করা হবে এবং ওদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হবে, কিন্তু ওরা তা করতে সক্ষম হবে না। হীনতাগ্রস্ত হয়ে ওরা ওদের দৃষ্টি অবনত করবে। অথচ যখন ওরা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তো ওদেরকে সিজদা করতে আহবান করা হয়েছিল। (কুরআন মাজীদ ৬৮/৪২-৪৩)
.
______
.
-বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ্ পাঠ করুন। আল্লাহ চাহে নামাজে আপনার মন আসবে।
.
_________
-পড়ব পড়ব বলে পড়া হয়না!! তবে নিজের সাথে একটা গেম খেলুন।। যেহেতু নিজের সাথে, সেহেতু কোন রেফারি নাই। তাই কখনো চিটিং করবেন না, সিদ্ধান্ত নিন।
★গেম- আপনার দূর্বলতা কোনটাতে বেশি খুজে বের করুন, অলসতার দিক থেকে নাকি আর্থিক দিক থেকে আপনি সবচেয়ে দূর্বল?? যদি অলসতা হয় তবে সিদ্ধান্ত নিন এক ওয়াক্ত নামাজ মিসের জন্য সেইদিনই কাযাসহ আরও ১০ রাকাত (সংখ্যাটা আপনি ঠিক করুন। তবে এমন সংখ্যা নিন যেন তা আপনার জন্য কষ্টকর হয়) নফল নামাজ পড়বেন।
আর যদি আর্থিক হয় তবে সিদ্ধান্ত নিন এক ওয়াক্ত নামাজ মিসের জন্য সেদিনই ৫০ টাকা দান করবেন (টাকার পরিমান আপনি ঠিক করুন, আপনার ৫ ওয়াক্ত নামাজ মিসের জন্য তা যেন খুবই কষ্টকর হয়।) 
আর প্রতিদিনের কাযা/জরিমানা প্রতিদিনই পূরণ করুন। না পারলে এজন্য আবার নিজের উপর নফল/জরিমানা চাপিয়ে দিন। যদি এপ্লাই করতে পারেন আপনি ১দিনেই শুধরে যাবেন ইনশাআল্লাহ, আর এপ্লাই করতে পারলে কখনোই কাজ হবেনা এই পদ্ধতিতে।
তাই প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিন, একদিন এই পদ্ধতি এপ্লাই করবেনই, ওইদিনই সোজা হয়ে যাবেন।
.
_____
.
- আপনি সালাত আদায় না করার পরিনতী সম্পর্কে ভাবুন।
নিয়মিত পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করুন।
প্রতিদিন শয়তানের হাত থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চান।
সর্বদা এই দোয়াটি পড়বেন। (আল্লাহুম্মা ইন্নি আয়ুজুবিকা মিনাল কাছাল) অর্থ- হে আল্লাহ, আপনার কাছে যাবতীয় অলসতা থেকে আশ্রয় চাই।
.
___
.
আপনার সালাতকে মনে করুন একটি ঘোড়ার মত। যখন আপনার
ঘোড়ার বয়স অল্প, তখন আপনি না এতে চড়তে পারেন, না পারেন
অন্য কাজে ব্যবহার করতে। কিন্তু
আপনি যদি একে ভালোভাবে দেখাশোনা করেন, প্রতিদিন পরিষ্কার
করেন, প্রশিক্ষণ দেন, খাওয়া-দাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যা করেন,
এর ওপর খরচ করে একে বড় করতে থাকেন, তাহলে দেখতে পাবেন
যে কাজটি কষ্টসাধ্য হলেও এই ঘোড়াটিই একসময় পরিণত
হয়ে আপনার জন্য এক শক্তিশালী, বিশ্বস্ত ও বাধ্য ঘোড়ায়
রূপান্তরিত হয়েছে। যখনই আপনার প্রয়োজন হবে, এটি আপনার
খেদমতে হাজির থাকবে। সফরে, যুদ্ধে কী বিপদ থেকে পালাতে যখনই
দরকার পড়বে আপনি এর পিঠে চড়তে পারবেন।
অনুরূপ আপনার সালাত। আপনার সালাত যখন দুর্বল, অল্পবয়সী ও
অপরিণত, তখন সেটাকে বোঝার মত মনে হবে। প্রথম প্রথম
সালাতের জন্য এ কাজগুলো করা খুব কঠিন মনে হবে: ওযূ করা,
সময়মত আদায় করা, অর্থ-না-জানা সূরাগুলো মনযোগ দিয়ে পাঠ
করা ও মুখস্থ আওড়ে যাওয়া, কিংবা ব্যস্ততা বা ক্লান্তির মাঝেও
সালাত আদায় করা ইত্যাদি। তবে আপনি যদি লেগে থাকেন, অনেক
চেষ্টা করেন, তাহলে চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে আপনার সালাতই
আপনাকে সাহায্য করবে। সালাত আপনাকে দেবে অন্তরের প্রশান্তি,
স্থিরতা, দৃঢ়তা, শক্তি, সুখ, আশাবাদ ও সাহস। আর কেবল তখনই
আপনার সালাত আপনার বোঝা হবার পরিবর্তে পরম উপভোগ্য
বিষয়ে পরিণত হবে।
(মন জুড়ানো মুহূর্ত, বই: প্রাচীর, পৃষ্ঠা ২৩৬).
.
______
.
Naseehah (দ্বীনি পরামর্শ) থেকে সংগৃহীত