"যার চলে যায় সেই বোঝে হায়-
বিচ্ছেদে কি যন্ত্রণা!"

#কাহিনী_সংক্ষেপঃ
দূর্ঘটনায় এক হাত ও এক পা হারানো অক্ষম এক মানুষ এনামুল। ব্যস্ত শহরের আর সব সাধারণ ব্যস্ত মানুষগুলোর ব্যস্ত সব সকালের মতই এনামুলের প্রতিটি সকাল আসে সমান ব্যস্ততায়; হয়ত কিছু বেশিই ব্যস্ত তার সকালগুলো। সেই দূর্ঘটনা আমূল বদলে দিয়েছে তাকে; অতীতজীবনে গা আলগা দিয়ে চলা আলসে লোকটিকে পরিবর্তিত করেছে সাধ্যাতীত কর্মঠ ও পরিশ্রমী মানুষে। আর এনে দিয়েছে সহকর্মীদের মনে ঈর্ষাসৃষ্টিকারী সাফল্য। অফিসে ঢোকার পর থেকে কিবোর্ডে মেশিনের মত চলতে থাকে এনামুলের হাত। শত সমস্যা এলেও কাজে ফাঁকি দেয় না সে।
একমাত্র আদরের মেয়ে মৌরীর জন্মদিন উপলক্ষে কবুতর কিনে এনে সে খবর মেয়েকে দিতে গিয়ে নিয়ম ভঙ্গ হয় তার। সেদিন আরো নিয়ম ভাঙতে হয় তাকে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা এগিয়ে আসতে থাকে তার দিকে। নীরব ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া একজন অক্ষম মানুষ আর কিইবা করতে পারে? কে বাঁচাবে তাকে? কি হবে তারপর?

#ভাললাগা_মন্দলাগাঃ
বই হাতে নিয়ে প্রচ্ছদে মেয়ের চোখ দেখে রোমান্টিক ঘরানার লেখা মনে হয়েছিল। কিন্তু কাহিনীর ভিতরে ঢুকতেই প্রচ্ছদের মানেটা জলের মত পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে চোখ মেয়ের না হয়ে ছেলের হলে প্রচ্ছদ আরো বেশি অর্থবহ হত মনে হয়।
প্রথমত বইয়ের কাহিনী, প্রেক্ষাপট, বিন্যাস এবং বর্ণনাভংগির বিচারে বইটা ভালই লেগেছে। একদিনের একটি দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুরো উপন্যাসের ব্যাপ্তি। স্মৃতিচারণার মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রের আগমন হয়েছে। যেকোন ধরনের ছোট বা বড় দূর্ঘটনার পেছনে মূলত দায়ী মানুষের অবহেলা ও অসর্তকতা। সামাজিক অবক্ষয় বা মানবসৃষ্ট কোন দূর্ঘটনার উপর লেখা বই পাঠকের মনে, অভ্যাসে ও আচরনে অনেক বেশিই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। লেখককে সাধুবাদ জানাই বইটির জন্য।

লেখক লিখবেন তার নিজস্ব গতিতে। পাঠকের ভাল লাগা না লাগার কথা ভেবে লেখা কখনোই সম্ভব নয়। তবু বলব, বর্ণনার ভাষায় আরেকটু সাবলীলতা আনার প্রয়োজন রয়েছে।
নতুন লেখকদের গ্রহণ করতে পাঠকদের সহজাত দ্বিধার প্রশ্নে আমার বক্তব্য, লেখকের লেখা আপনার মন্দ লাগবে না আশা করি। পড়ে দেখতে পারেন।

বইয়ের নামঃ মনে করো আর দেখা হবে না
লেখকঃ ইকবাল খন্দকার
প্রকাশকঃ মেধা পাবলিকেশন্স
প্রকাশকালঃ নভেম্বর, ২০১৯
পৃষ্ঠাঃ ৯৪
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৮০/-