#বই_রিভিউ

বইঃ কয়েদি
শ্রেনিঃ গল্পগ্রন্থ
লেখকঃ অঞ্জন হাসান পবন
প্রকাশনীঃ কিংবদন্তী পাবলিকেশন
২য় প্রকাশঃ বইমেলা-২০২০
ছাড় মূল্যঃ ২০০

-একটা এফআইআর লিখাতে চাই।
"জ্বি, কার বিরুদ্ধে?
-কয়েদির বিরুদ্ধে।
"কয়েদির বিরুদ্ধে?কেন?"
-কয়েদি আমার কাছ থেকে একে একে সব কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। ধ্বংস করেছে আমার সুস্থ স্বাভাবিক চিন্তা জগৎ-কে। কিছু বিষাদময় স্মৃতি দ্বারা তিলে তিলে খুন করছে আমাকে। প্রতিটি রাতে শুরু হয় মৃত্যু অভিযান। একেবারে মেরে ফেলতে না পারলেও মৃত্যু যন্ত্রনায় কোণঠাসা করে ফেলেছে আমাকে।আমি টাইটানিকের যাত্রীদের মতো বিষাদের আটলান্টিকে ডুবে যাচ্ছি আর নিজের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শন করছি। আমি আর নিজের মৃত্যু অনুভব করতে চাচ্ছি না। প্লিজ ওসি সাহেব, বাঁচান আমাকে। আমি আর নিতে পারছি না।
"আপনি কী রাকিবের মাহবুবা?"
-হ্যাঁ। আমি ই সেই হতভাগী যার রাকিবকে কেড়ে নিয়েছে কয়েদি। রাকিবের কিছু স্মৃতি আমাকে কাঁদায়, আমি কাঁদি। কিছু স্মৃতি হাসায়, আমি হাসতে থাকি। কিন্তু কখন যে সেই হাসি কান্নায় রূপ নেয়, আমি তখনই তা বুঝতে পারি যখন তপ্ত অশ্রু গাল বেয়ে পড়তে থাকে। কয়েদি আমাকে চন্দ্রমল্লিকা হতে বাধ্য করেছে। রবীন চাইলেই আমাকে তার কাছে রেখে দিতে পারতো। সেই অধিকার তার ছিলো। কিন্তু কয়েদি তেমনটা হতে দেয়নি। কয়েদি আমাকে তুলে দিয়েছিলো শাওন নামক প্রেমিকের হাতে। বিশ্বাস করুন। রবীনের সাথে কাটানো একটা মাত্র রাত আজ আমাকে বড্ড পোড়ায়। আত্মগ্লানির অনলে জ্বলছি প্রতিটি মুহূর্ত। কয়েদি আমাকে বিবেক নামক কারাগারের কয়েদি বানিয়ে দিয়েছে। কয়েদি আমাকে ধর্ষিতা উপাধি দিয়েছে। আরিফকে আমি স্বেচ্ছায় নিজের শরীর দিয়েছিলাম। আরিফ আমাকে ধর্ষন করেছে তার মুখের কথা দিয়ে, তার মস্তিষ্ক দিয়ে। যেদিন রৈখিক ভালোবাসাময় একটি সংসারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরিফ এক অন্য জগৎ এর বাসিন্দা বানিয়ে দিলো ঠিক সেদিনই আমি তার প্রতিশ্রুতির দ্বারা ধর্ষিত হয়েছি। কয়েদি আমাকে এমন এক উপাধি দিয়েছে যে, উপাধি শোনামাত্র সবাই বাঁকা চোখে এক অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে আমার দিকে তাকায়। আমি কয়েদির কয়েদি জীবন দাবী করছি, কিন্তু তা সম্ভব নয়- কেননা কয়েদি তার কয়েদি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে গেছে।
"কে দিয়েছে মুক্তি?"
-শুভ, শূন্য, শাওন এবং নুহান আলিফ। ওরা তো ওর মুক্তির জন্য আবেদন করলো। শুভ বললো কয়েদি তাকে রাত্রি নামক কোনো এক নতুন পৃথিবী দিয়েছে। সাথে দিয়েছে মা-বাবা নামক অক্সিজেন আর পানি। এদিকে শূন্যকে নাকি পুষ্পিতা আর পাখি নামের দুটি নক্ষত্র দিয়েছে কয়েদি। শাওন নাকি অপ্রত্যাশিত ভাবে তার প্রেমিকা চুমকি কে পেয়ে গেছে। পরে শুনতে পেলো কয়েদি'ই নাকি এই মহান কাজটা করেছে। নুহান তো কয়েদির কয়েদ হওয়ার কথা শুনে কেঁদেকেটে অস্থির। কয়েদি নাকি তাকে প্রিয়ন্তী নামের এমন একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো যার সাথে দেখা হওয়ার পর নুহানের জীবনের মোড়টাই পাল্টে যায়। এতো কিছু শোনার পর আর আঁটকে রাখতে পারিনি কয়েদি কে। কয়েদি জীবন থেকে মুক্তি পেলো কয়েদির
নীরবতা। ওসি সাহেব, আপনি দ্রুত অঞ্জন হাসান পবন নামক এই মানসিক সন্ত্রাসীর নামে একটা জিডি করুন। এই মানুষটা কয়েদি জীবন মুক্তি দিলো চার দেয়ালে বন্দি কোন এক জেল কয়েদির, আর আমাকে কয়েদির কয়েদ করে রেখেছে বইটির মাধ্যমে। মাথা থেকে বইটির প্রতিটি চরিত্র আমার ভেতরটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে আর কোটি কোটি দিচ্ছে ঠোকর! আর একটা প্রশ্ন ছিলো...
"কি প্রশ্ন?"
-ইলিশ মাছের কলিজার ইংরেজী কি হবে?

©Marruz Jahran