#ইসলাম_পালন_করার_সঠিক_পদ্ধতি_একটাই –

জরিপ অনুযায়ী ইসলাম নিয়ে সংশয় সৃষ্টির সবচেয়ে বড় কারণ হল, ‘ইসলাম পালনের সঠিক পদ্ধতি একটাই’, অনেক মুসলিমের এমন দাবি। আমরা জানি যে, ফিকহি বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য জায়েয, এবং এটা ইসলামের একটা সৌন্দর্য। সুতরাং এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইসলাম পালনের সঠিক পদ্ধতি একটাই, এমন বলা ভুল। নামাযে হাত রাখার জায়গা কেবল একটাই, জামাতে নামায পড়ার সময় সূরা ফাতিহার পর আমীন বলার ব্যাপারে সঠিক অবস্থান একটাই, এমন বলা হলে সেটা অবশ্যই ভুল। কিন্তু একটু আগে যে বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে, যেমন ইসলামী শারীয়াহ অনুযায়ী নারীর অবস্থান, যিনা, সমকামিতা ইত্যাদি বিষয়ে, ইসলামের অপরিবর্তিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে একথা সম্পূর্ণ সঠিক যে ইসলাম পালনের সঠিক পদ্ধতি একটাই। আলোচ্য জরিপে এ দ্বিতীয় অর্থটাই এসেছে। জরিপে অংশগ্রহনকারীদের সামনে যেসব প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়েছিলো সেগুলো দেখলে বোঝা যায়, এখানে ফিকহি মতপার্থক্যকে বোঝানো হচ্ছে না। যেমন –
• “বিয়ে আর জানাযা বাদ দিলে আপনি কতোটা নিয়মিত মসজিদে যান?”
• “সাধারণত আপনি কতোটা নিয়মিত নামায পড়েন?”
• “কুরআনের ব্যাপারে আপনি কি মনে করেন -
ক) কুরআন আল্লাহর কালাম, এবং একে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে?
খ) কুরআন আল্লাহর কালাম কিন্তু এতে এমন অনেক কিছু আছে যা কেবল রূপক
গ) কুরআন মানুষের লেখা ইতিহাস ও নৈতিকতা সংক্রান্ত একটি প্রাচীন বই”
• “নিচের কথাগুলোর ব্যাপারে আপনার মত কী?
-পৃথিবীতে দু ধরণের মানুষ আছে। একদল সত্যের পক্ষে আরেকদল সত্যের বিপক্ষে
-সমকামি যৌনসম্পর্ক ও বিয়ে
-সুদি ব্যাংক লোন
-অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব পালন করা
-অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করা
-মাথা না ঢেকে নারীদের বাইরে যাওয়া
-নারী ও পুরুষ মুসল্লিদের জন্য নারী ইমাম
- গর্ভের সন্তানের কারণে মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই, এমন ক্ষেত্রে গর্ভপাত”
সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এখানে নিছক মাসআলা-মাসায়েলগত মতপার্থক্যের সাথে সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন উপস্থাপন করা হচ্ছে না। এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে যেগুলোর ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান পরিস্কার। যেগুলো স্পষ্ট হারাম এবং অনেক সময় কুফরের সাথে সম্পর্কিত। সমকামিতা, ইসলামী শারীয়াহ অনুযায়ী নারীর ভূমিকা, হিজাব, নারী ইমাম হতে পারবে কি না, যিনা (বিয়ের আগে যৌনতা), রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিয়ে, আল্লাহর হুকুম ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামের “ট্র্যাডিশানাল অবস্থান” (পড়ুন কুরআন ও সুন্নাহর অবস্থান, সালাফ আস-সালেহিনের অবস্থান, সঠিক অবস্থান) অ্যামেরিকান মুসলিমরা মেনে নিতে পারছে না। খোদ ইসলাম তাদের জন্য ইসলাম নিয়ে সংশয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ইসলামের নৈতিকতা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। তারা এতোটাই “নৈতিক” হয়ে গেছে, এসব ক্ষেত্রে ইসলামের অবস্থান তাদের কাছে যথেষ্ট “নৈতিক” মনে হচ্ছে না। সহজ ভাষায় দীর্ঘসময় ধরে পশ্চিমা নৈতিকতা ও দর্শন (সেক্যুলারিজম ও লিবারেলিজম) দ্বারা চালিত সমাজের মধ্যে থাকার কারণে, এবং এ পশ্চিমা ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ না করার কারণে পশ্চিমা নৈতিকতাকেই এরা নিজেদের কম্পাস হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে। যখন ইসলামের অবস্থান এই পশ্চিমা কাঠামোর সাথে মিলছে না, তখন তারা ইসলাম নিয়ে সংশয়ে পড়ে যাচ্ছে। তারা এমন এক ইসলাম চাচ্ছে যেটা পশ্চিমা কাঠামোর সাথে খাপ খায়। যখন ইসলামের কোনো বিধান এই পশ্চিমা নৈতিকতার সাথে সাংঘর্ষিক হচ্ছে, তখন তারা নতুনভাবে ইসলামকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। আর যখন কেউ বলছে, “না ইসলামে সমকামিতা হারাম, সুদ হারাম, হিজাব ফরয, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবমাননাকারীর শাস্তি মৃত্যু, জিহাদ ক্বিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের ফরয বিধান, কেবল এককালীন না” – তখন সেটা তাদের জন্য “সংশয়ের উৎস” হয়ে যাচ্ছে। তারা ইসলাম ত্যাগ করছে।

বইঃ অবিশ্বাসের বিভ্রাট
প্রকাশনিঃ মিনারাহ পাবলিকেশন্স
১ম অধ্যায়
#সংশয়পথ
আসিফ আদনান

#প্রাপ্তিস্থান
মাকতাবাতুল আসলাফ
দোকান নং-১৮, আন্ডারগ্রাউন্ড
ইসলামী টাওয়া, ১১ বাংলাবাজার ঢাকা
যোগাযোগঃ ০১৭৬২-৩৯১৭৫৪, ০১৭৩৩-৪৯৮০০৪