আমাদের বোনদের মুক্ত করুন!
আরবের বুরাইদাহ্য় আমাদের নির্যাতিত বোনদের প্রতি অগণিত শ্রদ্ধা। কেবল বুরাইদাহতেই নয়, দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তের নির্যাতিত বোনেরাই এ শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু বুরাইদাহর প্রসঙ্গটি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক, তাই আমি সেখানকার বোনদের কথা উল্লেখ করলাম। তাদের মর্মস্পর্ষী, হৃদয় বিদারক ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমি সে প্রসঙ্গেই এ সপ্তাহে আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার ইরাদা (ইচ্ছা) রাখি ইন-শা-আল্লাহ।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে গত কয়েকদিনে এ ব্যাপারে কিছু আলোচনা করার জন্য আমার কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমান অনুরোধ এসেছে। সেজন্য আজকের আলোচনায় আমরা মূলত এ বিষয়ে কিছু বক্তব্য রাখবো। বাস্তব ক্ষেত্রে কিভাবে আপনি আপনার অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ করবেন? কারণ, তাওহীদের শিক্ষা দেয়ার সময় আমরা এ বিষয়ে লিখিত বইয়ের মাধ্যমেই শিক্ষা দিয়ে থাকি, ব্যবহারিক পদ্ধিতে নয়। আর এতে আমরা অনুসরণ করি সেই বিজ্ঞ আলেমগণের—যারা স্বীয় গ্রন্থ রচনা করেছেন পবিত্র কুরআনের উপর ভিত্তি করে। কুরআনের আলোকেই তারা তাওহীদের বাস্তব প্রয়োগ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। অতপর প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আর আমরাও তাওহীদের শিক্ষা লাভ করছি ব্যবহারিক জীবনে তা প্রয়োগ করার লক্ষ্যে। জ্ঞান শুধু মগজে ধারনের জন্য নয়। আমরা কোনো কিছুর শিক্ষা দিই এ কারনে—যেন আপনারা সে শিক্ষাকে হৃদয়ঙ্গম করে তা বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। মূলত বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগই হল জ্ঞানের মূল নির্যাস। একজন সাধারণ মানুষ দ্বীন সম্পর্কিত অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতেই পারে। কিন্তু একজন জ্ঞান-পিপাসু আলেম যদি অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মতো আচরন করেন, তবে তা তার চরিত্রের অযোগ্যতাকেই ফুটিয়ে তোলে। আর এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কোথা থেকে শুরু করবো তা আমি সত্যিই জানিনা। সম্মানিত এই মুসলিম উম্মাহ যখন সীমাহীন লাঞ্ছনার শিকার, তখন কেউ কিভাবে বিশ্রাম নিতে পারে? তার খাবার ও পানীয় উপভোগ করতে পারে? কেউ কিভাবে তার সন্তানের সাথে খেলাধুলায় মত্ত থাকতে পারে? কিভাবে কেউ হাসি-আনন্দমুখর দুশ্চিন্তাহীন জীবনযাপন করতে পারে? আমি আপনাদের ইতিহাসের দিকে একটু দৃষ্টি ফেরানোর অনুরোধ করবো। সেই উম্মাহর কথা একবার ভাবুন—যে উম্মাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ। যাদের রয়েছে একটি সোনালী অতীত।
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ.
“তোমরাই (ঈমানদার, মু’মিন, তাওহিদের বাণীতে যাদের অন্তর পরিপূর্ণ এবং যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকৃত অনুসারী) হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনত, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হত। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী।” (সুরা আলে-ইমরান : ১১০)
এ উম্মাহর ইতিহাস হচ্ছে সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার ইতিহাস। এ উম্মাহর ইতিহাস হচ্ছে অর্ধ-দুনিয়া শাসনের ইতিহাস। এ উম্মাহর ইতিহাস হচ্ছে সমাজ সংস্কারের ইতিহাস; মানবজাতিকে অন্ধকার অমানিষা থেকে আলোর পথে চালিত করার ইতিহাস। এ সেই উম্মাহ, যে উম্মাহ কখনও কারও অন্যায়-অত্যাচার কিংবা সীমালঙ্ঘন সহ্য করে না। (আমরা অনেকেই বলি) নির্যাতিত হোক সে, তাদের জিম্মায় থাকা কোন অমুসলিম অথবা কোন মুসলিম কিংবা নারী—এই হচ্ছে আমাদের মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য, যার কথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে উল্লেখ করেছেন,
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرجَتْ للنَّاس.
“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে।”
এই সেই উম্মাহ, যে অজ্ঞতার ধূসর মরুভূমি থেকে জন্ম দিয়েছে মানবতার স্বপ্নপুরির। এই উম্মাহ মানজাতিকে মুক্তি দিয়েছে জাহেলিয়্যাতের অন্ধকার অমানিশার কবল থেকে। সামাজিক কলুষতার কবল থেকে রক্ষা করে মানবজাতিকে নিয়ে গিয়েছে ন্যায়বিচার, সম-অধিকার এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’-এর পতাকাতলে। ইসলামের আলোকিত অতীতের পানে মনোনিবেশ করলে আপনারা কি তা দেখতে পান?
চলবে ইনশা আল্লাহ...।

....
বই : ফুল হয়ে ফোটো
মূল : শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল ও মোহাম্মাদ হোবলস
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪০
প্রকাশনায় : Pothik prokashon