#_পাঠ_প্রতিক্রিয়া



আমি যখন শরহে বেকায়া জামাতে পড়ি, তখন মাহিন মাহমুদ-এর "একটি লাল নোটবুক", "আর আধার মানবী" বই দু'টির কথা সহপাঠীদের কাছে শুনেছিলাম। গল্প গুলো সহপাঠীদের মুখে শুনে বই গুলো হাতে নিয়ে পড়তে ইচ্ছে করেছিল খুব, কিন্তু যার কাছে বইগুলো ছিল সে দেয়নি। মনে মনে তার প্রতি একটু রাগ ছিল, তবে এখন আর নেই কারণ লেখকের সব গুলো বই এখন আমার কাছে আছে। এবছরের শুরুতেই কিভাবে যেনো লেখকের আইডিতে ঢুকি। ঢুকেই সেই আগের দিনের কথা মনে পড়ে গেল। তারপর আবার বই গুলো পাওয়ার জন্য মনের মাঝে ছটফট শুরু হল, লেখকের প্রথম তিনটি বই সংগ্রহ করার পর দেখলাম তার আরেকটি বই আসবে কয়েক দিনের মধ্যেই। আগের তিনটি বই এত সুন্দর নিশ্চয়ই চার নাম্বারটাও যে আরও সুন্দর হবে এইটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতঃপর লেখকের চতুর্থ বই অটোগ্রাফসহ হাতে পেয়ে খুব বেশিই খুশি হয়েছিলাম কারণ, এটিই ছিল জীবনের প্রথম কোন লেখকের অটোগ্রাফ। বইটি হাতে পাওয়ার পর খুশিতে কাঁন্না চলে এসেছিল।



সারসংক্ষেপঃ



নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে জারা। মা বিহীন জারার বাবা ও ছোট বোনকে নিয়েই তার ছোট একটি পরিবার। বাবা রিটায়ার্ড, পরিবারে বড় ভাই না থাকায় জারা বড় মেয়ে হিসেবে তাকেই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সংসারে তেমন সচ্ছলতা নেই, ঠিক সেই মুহুর্তেই জারার জন্য বিশাল বড় এক সুযোগ আসে। দুনিয়ার জশ, খ্যাতি, সম্মান টাকা-পয়সা উপার্জন করার অনেক সুযোগ। কিন্তু জারা সেই সুযোগ টা হাতছাড়া করেদিল। কারন সে সত্যের সন্ধান পেয়ে গেছে। পেয়েছে সত্যের পথ। রাসুলের দেখানো পথ। জারার এখন একটাই উদ্দেশ্য এই সত্যের পথ, রাসুলের দেখানো পথ হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের কে সেই সন্ধান দেওয়া। এরপর জারা প্রথমেই সত্যের সন্ধান দেওয়ার ইচ্ছা করল বিশ্বখ্যাতি, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাবেরিকে। কিন্তু কি করে দিবে কোনো ভাবেই তার সাথে দেখা করার বা কথা বলার সুযোগ হচ্ছিলো না। এখন শুধু একটাই উপায় টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠান। লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই জারা অভিনেত্রী কাবেরির কথা বলার সুযোগ পায়। সুযোগ পায় সে কাবেরিকে সত্যের সন্ধান দেয়ার। পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে জঙ্গি ভেবে সেই ফোন কল করা ব্যক্তি কে....



জারার ছাত্রী মৃন্ময়ী। মৃন্ময়ী প্রতিনিয়ত জারার সাথে দুর্ব্যবহার করার পরও জারা মৃন্ময়ীর সাথে ভালো আচরণ করে। তাকেও ইসলামের ছায়াতলে, সত্যের সন্ধান দেয়ার চেষ্টা করে। মৃন্ময়ী জারাকে অপমান করার জন্য বড় একটি ফাদ পাতে। কি হয় তারপর...!



পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ



বইটি হাতে পাওয়ার পর শেষ না করে উঠতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। কারণ লেখকের আগের তিনটি বই এত সুন্দর চতুর্থ টিও নিশ্চয়ই আরো সুন্দর হবে। সেই লোভে এক বসাতেই শেষ করেছি।



ভালোলাগাঃ



বলতে গেলে পুরোটা জুড়েই ছিল ভালোলাগা..কিছু কিছু জায়গায় বেশিই ভালো লেগেছে।



কাবেরির পালটে যাওয়া! টুইটারে টুইট করা!


'প্রতিটি আত্মাকেই আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে'।


'সে-ই তো প্রকৃত স্মার্ট, যে তার মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সাজাবার কথা ভাবে'।


'মৃন্ময়ীর পাল্টে যাওয়া,কাবেরিকে ফোন দিয়ে চিঠিগুলোর কথা স্বরন করিয়ে দেওয়া....!



মন্দলাগাঃ


ভালো লাগা ছাড়া মন্দ লাগার একটুও অনূভুতি আসেনি! তাই মন্দ লাগার প্রশ্নই আসে না।



#কেন_বইটি_পড়বেনঃ



আমরা জন্মগতভাবে মুসলিম হলেও, বাস্তবে সকলে কাজে মুসলিম না। লোক দেখানো এবং নামে মুসলিম। বইটি


সকলের পড়া উচিত বিশেষ করে পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনে পথ হারা আমাদের মুসলিম বোনদের বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো। বইটি পড়ার মধ্যমে একজন বোন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারবে এবং অন্যকেও দাওয়াত দিতে পারবে। হয়তো এই বইটি পড়েও অনেক বোন হেদায়াতের আলো দেখতে পাবে। তাই সকলের উচিত বইটি পড়া।



বইঃ পুন্যময়ী


লেখকঃ মাহিন মাহমুদ


প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল হাসান


প্রচ্ছদঃ আবুল ফাতাহ


পৃষ্ঠাঃ ২০০


মুদ্রিত মুল্যঃ ৩৩০ টাকা।