#প্রিভিউ

আত্মকথনঃ
-----------------'বান্দার ডাকে আল্লাহর সাড়া'

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ! কেমন আছেন আপনারা? আশা করি ভালো আছেন সবাই!

আমি "বান্দার ডাকে আল্লাহর সাড়া"। আমার জন্ম আরবি ভাষায় হলেও এ-যাবৎ প্রায় ৪০ টি ভাষায় আমায় রূপান্তর হতে হয়েছে। মহান রবের দরবারে হাজারো শুকরিয়া, তিনি আমাকে এতটা কবুল করেছেন। আমি এ-ভেবে সীমাহীন আনন্দিত হই যে, এতগুলো ভাষার মানুষ রবকে স্মরণ করা ও ডাকার নানা পদ্ধতি জানতে আমাকে বেছে নিয়েছেন, ভাবতেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি!

তবে পুরো মুসলিম বিশ্বে বাঙালীরা আমল আখলাকে অনেক এগিয়ে। কিন্তু তাদের মাঝেই আমি ছিলাম না। আল্লাহপ্রেমীরা হয়ত মনে মনে আমার মতো কাউকেই খুজছিলেন। আমিও খুব করে চাচ্ছিলাম বাংলার গঠনেও যেন আমার আত্মপ্রকাশ হয়! বাঙালীদের মুখেও যেন আমাতে থাকা রাসূলের নির্দেশিত দুআগুলো রবের দরবারে উচ্চারিত হয়! আপনাদের ও আমার মনের অব্যক্ত কথাগুলো পৌছে গেছে মাকতাবাতুল বায়ানের হৃদয়কানে। তাই তারা আমাতে মুগ্ধ হয়ে আপনাদের উপকারী হব বলে বিশ্বাস করে সেই উদ্যোগ নেন। আলহামদুলিল্লাহ আরো একটি ভাষায় আমার রূপান্তর হয়েছে।

আমার মূল পরিচয়ই তো বলা হলো না আপনাদের।
আমার মূল নাম -
" الذکر والدعاء والعلاج بالرقی من الکتاب والسنة "
আমাকে প্রথম অস্তিত্বে এনেছেন শাইখ ড. সাঈদ ইবনু আলি ইবনি ওয়াহাফ কাহতানি রহ.।

আপনারা আমাকে আগে অতটা না দেখলেও 'হিসনুল মুসলিম'কে চিনেন নিশ্চয়? যতদুর জানি, এদেশে সে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সে তো আমারই একটা অংশবিশেষ মাত্র। তবে তাতে দৈনন্দিন জীবনের কেবল দুআগুলোর সংকলন হয়েছে। অনেকেরই নবীজির দুআর ভাষ্যগুলো পড়তে গিয়ে মাথায় প্রশ্ন আসে, নবীজি স. এই দুআটি কখন কোথায় কেন পড়েছিলেন, বা কখন কাকে কেন শিখিয়েছিলেন? দুআটিকে হাদীস থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার দরুণ প্রেক্ষাপটগুলো পাঠকমহলে স্পষ্ট ছিল না। পুরো হাদীস সহ দুআটি জানা গেলে মনে অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করে, আগ্রহ বাড়ে, যা শুধু দুআর উল্লেখে হয় না।

আলহামদুলিল্লাহ আমার ভেতর সেই শূণ্যতা নেই। প্রতিটি দুআই আমাতে সন্নিবিশিত করা হয়েছে পুরো হাদীস সহকারে। মানবজাতির মহান শিক্ষক পথহারা মানুষদের সঠিকপথের দিশা দিতে আমরণ কাজ করে গেছেন৷ শিখিয়েছেন রবকে ডাকার নানা পন্থা, বিভিন্ন মাধ্যম, বলেছেন হরেক রকমের বিপদ আপদ ও ব্যধির প্রতিকারপদ্ধতি। তবে হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় পাঠকদের জন্য আত্মস্ত করা ছিল কষ্টসাধ্য ব্যপার। এসব সমস্যা ঘুচাতেই এক মলাটের সেই বিস্তর রূপ এই আমি।

আমি চাই, আপনারা আমাকে হাতে তুলে নিন। আমাকে পড়ুন। আমি নিজের জন্য চাই না, চাই আপনাদের কল্যাণে। ওপারের জীবনে প্রশান্তিময় স্থায়ী নিবাসের টিকেট হাতে তুলে নিতে আমাকে বেছে নিতে পারেন আপনার সুহৃদ বন্ধু হিসেবে। অযথা সময় নষ্ট করব না আপনার। আমি তো প্রাণহীন এক জড়পদার্থ মাত্র। আমি কথা বলি লেখার ভাষায়। তাই আমার দরদি কথাগুলো শুনতে হলে আমাকে আপনার হাতে তুলে নিতে হবে। আপনি আমাকে হাতে নিন, আমি আপনাকে জান্নাতের চাবির সন্ধান দিব। আপনার কাজটুকু পূর্ণ করুন, আমিও আমার ওয়াদা পূরণ করব ইনশাআল্লাহ!

কী ভাবছেন? অযথা বকছি? নিজের ঢোল নিজেই পিটাচ্ছি! হ্যা, পিটাচ্ছি। তবে আপনাদেরকে কিছু দিব বলেই করছি এসব। নিজের স্বার্থে নয়, বরং আপনাদের কল্যাণের কথা ভেবে। আচ্ছা চলুন, আমার উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্টের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই--

১. আমার ভেতর নবীজি স. থেকে বর্ণিত শুধু দুআটুকু উল্লেখ করেই ক্ষান্ত থাকা হয়নি৷ বরং প্রত্যেকটি দুআ যে হাদীসে আছে তার পূর্ণাঙ্গ পাঠ উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে পাঠক স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন--নবি স. দুআটি কখন কাকে কেন শিখিয়েছিলেন।

২. দুআর মর্মকথা ও প্রকারভেদ, দুআর মহত্ত্ব, দুআ কবুলের শর্ত, যেসব কারণে দুআ কবুল হয় না, দুআ করার নিয়ম কানুন, দুআ কবুলের সময় ও স্থান, নবি-রাসুলের ডাকে আল্লাহর সাড়া, যাদের দুআ কবুল হয়, মানুষের জীবনে দুআর গুরুত্ব--ইত্যাদি জরুরী বিষয়ের বিশদ পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে৷ যার কল্যাণে আমি পুরো বিশ্বে একটি পূর্ণাঙ্গ দুআর বই হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি।

৩. আমার মূলরূপ আরবিতে প্রত্যেকটি হাদীসের তাখরীজ (উৎস-নির্দেশ) করতে গিয়ে পাদটীকায় অসংখ্য হাদীস গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। তবে অনুবাদের সময় সাধারণ পাঠকদের কথা মাথায় রেখে সেসব গ্রন্থের এক-দুটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. প্রচলিত দুআর বইগুলো সাধারণত তাহকীকবিহীন। তবে শুদ্ধতার বিচারে মনের সংশয় দূর করতে আমি এসেছি আপনাদের সামনে পূর্ণাঙ্গ তাহকীকী সূরতে। কিন্তু মূল আরবিতে একেকটি হাদীসের তাহকীক করা হয়েছে ছয়-সাত পৃষ্ঠা পর্যন্ত৷ তবে অনুবাদে লেখকের অনুসিদ্ধান্ত এক-দু শব্দে পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে, এটাও সাধারণ পাঠকদের কথা চিন্তা করেই।

৫. রুকইয়া অংশে কুরআন সুন্নাহ'য় উল্লেখিত চিকিৎসাপদ্ধতির পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর ন্যায় অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৬. দুআগুলো লাইন-বাই-লাইন অনুবাদ করা হয়েছে, যাতে পাঠকগণ প্রতিটি লাইন বাংলার সাথে মিলিয়ে বুঝে বুঝে দুআগুলো পড়তে পারেন। যারা আরবি বুঝেন না তাদের জন্য এই কাজটা কতটা উপকারী, ভাবা যায়!

৭. অনন্য কিছু বৈশিষ্টের কল্যাণে মুসলিম-সমাজে আমি এতটাই সমাদৃত হয়েছি যে, এ যাবৎ বিশ্বের প্রায় ৪০টি ভাষার মানুষ আমাকে পড়ছে নিজেদের ভাষায় আপন করে নিয়ে।

৮.আরবি শব্দের বাংলা উচ্চারণে মাঝে মাঝেই অজ্ঞ লেখকদের কবলে পড়ে শব্দবিকৃতি চোখে পড়ে। যা বিজ্ঞ পাঠককে বিরক্ত করে এবং অজ্ঞ পাঠককে ভুলভাল শিখায়। তবে অনুবাদক বিজ্ঞ আলিম হওয়ায় খুব সজাগ দৃষ্টি রেখেই আমাকে সর্বমহলের পাঠকউপযোগী করে তুলেছেন।

৯. সাধারণত আমলী এসব দুআর বইগুলো থাকে রেফারেন্সশূণ্য। তাই খাঁটির সাথে ভেজাল হাদিসের সংমিশ্রণ ঘটে বিভিন্ন লেখকের লেখনীতে। ফযীলতের পাহাড় দেখে যাচাই ছাড়া সূত্রবিহীনই উঠিয়ে দেন নিজের ফাযায়েলের উপর লেখা কিতাবে। তাই এসব বইয়ের প্রভাবে যে কোনো ফাযায়েলের বই পড়তে গেলেই পাঠকের মনে বাসা বাঁধে নানা সংশয় ও দ্বিধা। তবে টেনশনের কিছু নেই। আমি চলে এসেছি তো! এই আমি আপনার সামনে উপস্থিত। আমার ভেতর পাবেন না এমন কোনো দুআ সম্বলিত হাদীস, যাতে রেফারেন্স যুক্ত করা হয়নি। পাবেন না। পাবেন না।

------------------------------------------------------------------------

প্রকাশনী দ্বীনি স্বার্থে আমার পরিচিতি বাড়াতে ও আমার জাত চিনাতে ৪৫ পৃষ্ঠার পিডিএফ ফাইল উন্মুক্ত করেছে পাঠকমহলে। এই দেখুন, আমিই শুধু বলে যাচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত গুণাবলী ও বৈশিষ্টের বর্ণনা তো আমিই দিয়ে দিলাম। ছোট্ট এই পিডিএফটি পড়েই একজন পাঠকের কিছু অভিব্যক্তি শুনুন!

"আলহামদুলিল্লাহ! অল্প কয়েক পৃষ্ঠার পিডিএফ পড়েই বইটির প্রেমে পড়ে গেছি। মুগ্ধতা ছড়িয়েছে আমার হৃদয়রাজ্যে। নামটাতেই যাদুমাখা। ফিরে যেতে চাইলেও যেন চুম্বকার্ষণে কাছে টেনে আনে। বইটি খুললে প্রথমেই চোখে পড়ে একটি হাদীসে কুদসি, মনের স্মৃতিপটে বাধাই করে রাখার মতো। এই একটি হাদীসই আত্মভোলা মালিকবিমুখ মানুষকে মালিকমুখী করতে যথেষ্ঠ। দুআয় অনাগ্রহীকে আগ্রহী করতে বেশ কার্যকরী।

১৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত চলে গেছে সূচিপত্রেই। সূচিপত্র পড়লেই যে-কেউ বইটির গুরুত্ব অনুভব করে পুরো বইটি পড়ার জন্য উতলা হয়ে উঠবেন, যেমনটা আমার হচ্ছে। বইটির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মণিমুক্তা। মনে হচ্ছে, আর যদি কিছু পৃষ্ঠা বেশি থাকতো! নবীজির মুখনিঃসৃত বাণি+ লেখকের মুগ্ধকর বিন্যাস + অনুবাদকের যাদুময়ী উপস্থাপনে যে-কোনো পাঠকের হৃদয়রাজ্যে মুগ্ধতা ছড়াবে নিঃসন্দেহে।

অনুবাদকের কথা তিন পৃষ্ঠায় ইতি টানা হয়েছে। তবে বেশ গুছালো ও সুন্দর আলোচনা এনেছেন তিনি। পুরো বইয়ের সংক্ষিপ্ত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। তার অনুবাদ ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে একটি বিশেষ জায়গা দখল করে নিতে পেরেছে। ভাষায় সহজতা ধরে রাখতে পারা তার সবচে বড় সফলতা। আর এই দিকটিই পাঠককে বইয়ে টানতে বেশি কার্যকরী। তার লেখা পাঠককে টানে, টাকায় কিনেছে তাই না চাইলেও তিতা ঔষধের মতো জোর করে খেতে হয় না। বরং তার লেখা পাঠক মিষ্টি ভিটামিন সিরাপের মতোই আগ্রহ নিয়ে খায়, মজা পায়, আরো খেতে চায়, বিরক্তি আসে না। আসে কেবল মন থেকে দুআ। তার জন্য রয়ে যায় বুকভরা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

তিনটি পর্বে ভাগ করা বইটি।
প্রথম পর্ব -যিকির
দ্বিতীয় পর্ব -দুআ
তৃতীয় পর্ব-রুকইয়া

পিডিএফ ফাইল ওপেন করা হয়েছে 'যিকির' পর্বের "সকাল-সন্ধ্যার যিকির" অধ্যায় ও 'দুআ' পর্বের "দুআ কবুলের সময়" অধ্যায় নিয়ে।

সব মিলিয়ে অনন্য উপকারী একটি খিদমত আঞ্জাম দিতে যাচ্ছে মাকতাবাতুল বায়ান। বইটির জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গুণছি। আশা করি বইটি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে! আল্লাহ বইটি কবুল করুন! বইটির মাধ্যমে আমাদের উপকার হাসিলের তাওফীক দিন! বই সংশ্লিষ্ট সবাই-ই রবের দরবারে মকবুল হোক!

বইয়ের নাম-------------- : বান্দার ডাকে আল্লাহর সাড়া
লেখক--------------------- : ড. সাঈদ ইবনু আলি কাহতানি (রহিমাহুল্লাহ)
অনুবাদক --------------- : শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী
কলেবর------------------- : ৩৬০ পৃষ্টা
সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য----- : ৫০০৳
বাঁধাই---------------------- : হার্ড কভার
প্রাপ্তি স্থান---------------- : মাকতাবাতুল বায়ান সহ পছন্দের যে কোনো অনলাইন শপে প্রি-অর্ডার চলছে।

tags:ইসলামিক গজল,বাংলা ওয়াজ,আল্লাহ,ইসলামিক ভিডিও,বান্দার যে আমলে,বান্দার ডাক,দোয়া,আল্লাহর দান,ইবাদত কবুলের শর্ত,পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ,আজান থামিয়ে দিলো ঝড়,আল্লাহ সব জায়গায়