মাঝে মাঝে মনে হয় আমি ভুল,আমি মিথ্যা, আমি ছায়া, আমি অব্যয়।মনে হয় এমন করে নিজেকে বঞ্চনা করে কি লাভ?
মেমসাহেব যদি আমাকে ঠকিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে, তবে আমিই বা তাকে মনে রাখবো কেন? হতচ্ছাড়িকে ভুলবো বলে হুয়াইটস্ হর্স এর বোতল নিয়ে বসে ঢক ঢক করে গিলেছি।
গিলতে গিলতে বুক পেট জ্বলে উঠলেও,আমি স্বাভাবিক থাকতে পারিনি কিন্তু তবুও ওর হাসি,ওর ঔ দুটো চোখ আমার সামনে থেকে সরে যায়নি। আবার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমি লম্পট, বদমাইশ,দুশ্চরিত্র হবো,যেখানে যে মেয়ে পাবো তাকে নিয়ে ফূর্তি মজা করব। মনে হয়েছে রক্ত মাংসের এই দেহটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলব। পারিনি। দোলাবৌদি,আমি পারিনি।
সুযোগ-সুবিধা পেলেও পারিনি। মনে হয় মেমসাহেব আমার পাশে দাড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
,
রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে গিয়ে একটু ময়লা,টানা-টানা চোখের বিরাট খোপাওয়ালা মেয়েকে দেখলেই মনে হয় ঔতো মেমসাহেব। প্রায়ই ছুটে যাই তার পাশে, কোথায় পাবো আমার কালো মেমসাহেবকে?
,
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে মেমসাহেব আমার কাছে এসে ঘুম টা কেড়ে নিচ্ছে। আগে আমার কি বিশ্রী ঘুম ছিল। বিশ্বব্রক্ষান্ড ওলট-পালট হয়ে গেলেও আমার ঘুম ভাঙতো না। ঘুমের জন্য মেমসাহেব ও কি আমাকে কম বকাবকি করেছে?
কিন্তু আজ? ঘন্টার পর ঘন্টা বিছানায় গড়াগড়ি করি কিন্তু ঘুম আসে না। একেবারে শেষ রাত্রের দিকে ভোর বেলায় মাত্র দু'তিন ঘন্টার জন্য ঘুমাই।জীবনটা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। সব কিছু থেকেও আমার কিছু নেই।
,
মেমসাহেবকে ভুলি কি করে?
ওকে ভুলতে হলে নিজেকে ভুলতে হয়,ভুলতে হয় আমার অতীত, বর্তমান,ভবিষ্যত।
 কিন্তু সে কি সম্ভব, আমি যদি উন্মাদ না হই তাহলে কি করে হবে,আমার জীবনের অমাবস্যার অন্ধকারে ওর দেখা পেয়েছিলাম। কিন্তু পূর্নিমার আলোয় ওকে পাবার আগেই ও পালিয়ে গেল।
,
মেমসাহেবের কন্ঠস্বর চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। আজ আমি যত অনিয়মই করিনা কেন, কেউ নেই আমাকে শাসন করার,
কেউ নেই আমাকে বাধা দেবার।
,
কর্ম জীবনের সাফল্য, সমাজ জীবনের প্রতিষ্ঠা, প্রান ভরা ভালবাসা -সব কিছুই দিয়েছে। নিজে কিছুই ভোগ করলো না, কিছুরই ভাগ নিল না। সব কিছু রেখে গেল- নিয়ে গেছে শুধু আমার হৃদপিন্ডটা।

PDF Donwload Link