#বছরের_শেষ_রিভিউ

মানুষ চাইলেও সবসময় গুছিয়ে লিখতে পারে না। আমার কাছে এই জিনিসটাকে অসুখ মনে হয়, ইদানীং এই অসুখটাই আমার ঘাড়ে চেপে বসেছে চাইলেও সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারছি না। তাই শুধু পাঠ্যপ্রতিক্রিয়াই দিবো।

পাঠ্যপ্রতিক্রিয়াঃ

হুমায়ুন আহমেদ ওনার প্রতিটি বইয়ের চরিত্রকে খুব নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেন। খুব কম মানুষই বোধহয় আছেন যারা হুমায়ুনের উপন্যাসের নায়িকার প্রেমে না পড়েন। হুমায়ুন আহমেদ এই উপন্যাসে যেনো এক মেঘবালিকার সন্ধান ই দিয়েছেন। অভিজাত ঘরের মেয়ে মৃন্ময়ী, চঞ্চল, রাগী এবং বেশ উদ্ভট স্বভাবের মেয়ে কিন্তু ভয়ংকর সুন্দরী । মৃন্ময়ীরা ধনী হলেও সবকিছু তার দাদার উপার্জিত। মৃন্ময়ীর দাদা কিছু পাগলাটে টাইপের, থাকেন ও আলাদা এক খামারবাড়িতে। মৃন্ময়ীর বাবা আর্কিটেক্ট হলেও কিছু করেন না,ওনার কাজ হলো ছবি কিনে জমিয়ে রাখা। মৃন্ময়ীর দাদা মৃন্ময়ীর বাবাকে দেখতে পারেন না, মানুষ তিনবেলা ভাত খায় আর মৃন্ময়ীর দাদা তিনবেলা ভাত না খেলেও ছেলেকে গালি দিয়ে তা পুষিয়ে নেন। গল্পে বাপ-ছেলের চিঠি আদান-প্রদান সবচেয়ে মজা লেগেছে।

জহির এই গল্পের আরেকটি চরিত্র এবং এই উপন্যাসের নায়ক। জহির একজন আর্টিস্ট। তার কাছ থেকে মৃন্ময়ীর বাবা একটি ছবি কিনে আনেন এবং তার কাছ থেকে ছবি আঁকা শিখতে চান। জহিরের বোন মীনা তার একমাত্র কাজই হচ্ছে কান্না,ছোটখাটো ব্যাপার নিয়েই সে কান্না করে। এই উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র হলো মৃন্ময়ীর বান্ধবী ছন্দা যার অভ্যাস হলো চুরি করা। সাদামাটা কাহিনী নিয়েই গল্প এগোতে থাকে। গল্পের বেশকিছু কথোপকথন খুব ভালোলেগেছে। সব চরিত্রই একমুখী। লেখক কোন চরিত্রকে তেমন একটা হাইলাইট করেন নি। তবে উপন্যাসটা পড়তে খারাপ লাগবে না, প্রতিটি চরিত্রই খুব নিখুঁতভাবে সাজানো। শেষদিকে মীনা আত্মহত্যা করে। কেনো করে জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।

রেটিংঃ ৭/১০

হ্যাপি রিডিং :)

বইঃ মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই
লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ
প্রকাশকঃ কাকলী প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০০৬
প্রচ্ছদঃ সমর মজুমদার
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১২
মূল্যঃ ১৬০ টাকা

ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন.... :)