রিভিউ- ৬
বইঃ আহাফি
লেখকঃ রশীদ জামীল
প্রকাশনীঃ কালান্তর প্রকাশনী
চতুর্থ প্রকাশঃ ফেরুয়ারি ২০১৬
প্রচ্ছদঃ নওশিন আজাদ
প্রকাশকঃ আবুল কালাম আজাদ
পরিবেশকঃ মাকতাবাতুল আযহার
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৪০ টাকা মাত্র।

সূচনাঃ
আজ ইসলামের মধ্যেই বিভিন্ন ভাগ দেখতে পাচ্ছেন? কখনো প্রশ্ন জেগেছে মনে একই তো ধর্ম সেখানে এতো ভাগ, বিভাজন কেন আসলো? তাও যেখানে ইসলাম নিজেই ভাগ পছন্দ করে না, সবাইকে এক কাতারে দেখতে চায়...

যুগযুগ ধরে ইসলামের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ইসলামী জ্ঞানকে পরবর্তী জেনারেশনের জন্য করে গিয়েছেন সহজবোধ্য, সহজলভ্য। এখন আর আগের মতো শতশত মাইল দূরের কোন দেশে যেয়ে দ্বীনি শিক্ষা নিয়ে আসতে হয় না। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় বই, বইয়ে যেটা স্পষ্ট না একটু হেটে মসজিদ বা আসেপাশে তাকালেই দেখা মেলে মুফতির। যারা দ্বীনি জ্ঞানকে করেছেন সহজলভ্য।

ইসলামে এই বিভাজন নতুন নয়, নবী সঃ মারা যাবার কিছুদিন পরই শুরু হয় এই বিভাজন, তবে তখনকার খলিফা, সাহাবীদের কারণে এই বিভাজন সেই সময় অতটা ছড়াতে পারেনি। তারা তাদের জ্ঞান ও ইলম দ্বারা দূর করেছেন বিভাজন।

বইয়ে যাবার আগে জেনে নিনঃ
আপনি কি জানেন, বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে যেসব ভাগ দেখা যায় তাদের মধ্যে সুন্নি, শিয়া, আহলে হাদিস ইত্যাদি অন্যতম? সুন্নিরা বেশিরভাগ ৪ মাজহাব এর কোন কোন কোন মাজহাব মেনে চলে। এগুলো হচ্ছে হানাফি (সুন্নি), মালিকি(সুন্নি) শাফিয়ি (সুন্নি), হাম্বলি (সুন্নি)। এই মাজহাব বিষয়টা কি? ৪ ব্যাক্তির নিজস্ব নামের অংশ নিয়ে এক একটি মাজহাবের নাম করণ করা হয়েছে। ইসলামের বিষয়গুলো জনসাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে গেছেন এরা। কোরআন, হাদিস থাকতে কেন এই মাজহাব মানবো? এই প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলতে চাই আপনি যে কোরআন পড়ছেন সেই কোরআন নবী সঃ থাকতে ছিলো না তাহলে কেন বই আকারে পড়ছেন? নবী সঃ মারা যাবার পর প্রথম লিখিত পূর্ণাজ্ঞ কোরআন প্রকাশ করা হয় তাও সে সময় নুক্তা, যবর, যের, পেশ ছিলো না। এগুলো সংযোজন হয় আরো পরে মানুষের সুবিধার জন্য। তাহলে এই কোরআন কেন পড়ছেন? আর হাদিস! ইমাম বুখারি বা মুসলিম যেই হাদিস গুলোকে আমরা বিশুদ্ধ বলে জানি, মানি, আপনি জানেন কি সেই সব ইমাম রাও ডিরেক্টলি, ইনডিরেক্টলি এই মাজহাবি লোকদের অনুসরণ করেছেন, মেনেছেন। এমনকি তাদের থেকেও হাদিস সংগ্রহ করেছেন?

বই নিয়ে অল্প কিছু কথাঃ
আহাফি বইটি আহলে হাদিস এর কিছু ভুল মতবাদকে তুলে ধরা হয়েছে। আহলে হাদিস নামকরণ শুরু হয় যখন এই মাজহাব এর প্রচলন শুরু হয় তখন থেকেই। যখন মানুষ বলা শুরু করলো আমি অমুক ইমাম বা মাজহাবকে অনুসরণ করে দ্বীন পালন করি, তার থেকে শিক্ষা নিয়েছি, তখন একদল আসলো বলা শুরু করলো আমরা হাদিস মানি, কোরআন মানি কিন্তু মাজহাব মানবো না। তো এদেরও একটা নাম প্রয়োজন হলো, পরিচয় প্রয়োজন হলো। তখন তারা নিজেদের আহলে হাদিস বলে প্রচার শুরু করলো। এরা আবার যুক্তিতে বিশ্বাসী। যেসব হাদিস তাদের যুক্তিতে আসে সেগুলো মানে, যা যুক্তিতে আসে না মনে করে মানার দরকার নাই। এই হিসেবে ভুল ও রহিত হাদিস ও যদি তাদের যুক্তিতে মনে হয় ঠিক আছে তাহলে সেটা মানতে তাদের বাঁধা নেই।

এখন প্রশ্ন থেকে যায় যা আগেই বলেছি, হাদিস যে মানবেন সেটা কে লিখে দিল? কোরআন বর্তমান এর টা যে পড়ছেন সেটা তো আগে ছিলো না কেন পড়ছেন? যদি নবী সঃ এর সময়কার জিনিসি মানেন অন্য কোন কিছু মানবেন না বলে ঠিক করেন তাহলে মসজিদে যে মাইক ব্যবহার করেন সেটা কেন করছেন? কাগজ, কলম যা আগে ছিল না, মুঠো ফোন ব্যবহার করা যাবে কিনা সেটার রায় কে দিবে? বলছে কাওকে মানবে না অথচ তাদেরও কোন ইমাম আছে যার বই তারা ফলো করছে...।

মূল বিষয়টা হচ্ছে শিক্ষা নেয়ার জন্য আমাদের কারো না কারো কাছে যেতে হয়, তার থেকে জানতে বুঝতে হয় তারপর মানতে হয়। নিজে নিজে কোরআন, হাদিসের জ্ঞান সম্ভব না, এমনকি সাধারণের জন্য মাজহাব মানলেও সেই মাজহাব বুঝতেও ইমাম, মুফতি, হুজুরের কাছে যেতে হয়, বুঝতে হয়।

সারাংশেঃ
মাজহাব কেউ মানলে যেকোন এক মাজহাব মানতে,অনুসরণ করতে হবে। একই সাথে একাধিক মাজহাব মানা যাবে না, কারণ মাজহাবের মাঝেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। এই ভিন্নতা বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন বিষয়ে এসেছে। তাই সে কোন এক মাজহাব মানতে হবে। আর যারা মাজহাব মানে না প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে তারা কি মানছেন, সেগুলো কোথায় পেলেন?

রেটিংঃ ৮/১০
যুক্তিনির্ভর, ভালো একটি বই। বইয়ের বিষয় তেমন ভাবে ফুটিয়ে তুলিনি, যা বলেছি বেশিরভাগ নিজের মতো করে বলা। তাই বইটি পড়তে হবে জানতে হলে ডিটেইলস। পড়ুন, জানুন, শিখুন,মানুন।
বি.দ্রঃ আপনি জানেন কি উপমহাদেশের বেশিরভাগ সুন্নি হানাফি মাজহাবের অনুসারি?