#যেমন_ছিলেন_তিনি_প্রিভিউ_প্রতিযোগিতা

যার পরশে আরব হয়েছিল সৃষ্টির সেরা মানবের আবাসভূমি। যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন--নির্দিষ্ট কোনো জাতি গোষ্ঠির কাছে নয়, বিশেষ কোনো সীমারেখা মেনে নয়, সারা জাহানের বরং জাহানসমূহের সংস্কারকরূপে। পৃথিবীতে যার হাত ধরে এসেছে চিরস্মরণীয় ইনকিলাব।

যেই সৃষ্টির নাম আজ স্রষ্টার নামের পাশে শোভা পায়। অন্যসব সৃষ্টি যার নাম যপে মধুময় ভালোবাসার টানে।

যার জীবনের একেকটি কথা সংরক্ষিত রয়েছে এমন গুরুত্বের সাথে, যার নজির পৃথিবীর ইতিহাস পেশ করতে অক্ষম। যার চলন-বলন বর্ণনা করে আসছেন প্রতিযুগের প্রথিতযশা জ্ঞানীমহল, শুধু 'মুহাম্মদি মহল' নয়--তার ধর্মের পুরো উল্টো মতাদর্শীরাও। যার জীবনচরিত বর্ণিত হচ্ছে নির্ভুল সনদ-প্রমাণ সহকারে! সংক্ষিপ্ত ও বিশদ আকারে! পু্ঙ্খানুপুঙ্খরূপে। ঘড়িতে চলতে থাকা সময়টাতে এমন একটা মুহুর্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে সময়টাতে কেউ না কেউ এই মহামানবের জীবনচরিত লিখছে না, বলছে না, তার প্রেমে হৃদয়নিংড়ানো ভালোবাসার পংক্তিমালা গাইছে না।

তার জীবনের এক-একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশও চিরদিন সুরক্ষিত থাকবে পৃথিবীর বুকে, বইয়ের পাতায়, প্রতি যুগে তার অগণিত প্রেমিকের হৃদয়রাজ্যে। যার অনুকরণেই আছে ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি। দুজাহানের সফলতা নির্ভর করে যার পদাংক অনুসরণের যথার্থতার উপর।

যিনি সকল সৃষ্টির সর্বোত্তম আদর্শ। যিনি সায়্যিদুল মুরসালীন। যিনি খাতামুন্নাবিয়্যীন। যিনি রহমাতুল্লিল আলামীন। এমন খাইরুল বারিয়্যাত সত্ত্বার জীবনচরিত বর্ণনায় আম্মাজান যথার্থই বলেছেন-- (كان خلقه القرآن) 'তার জীবনচরিত হলো কুরআনের বাস্তব রূপ'। যার চারিত্রিক উৎকৃষ্টতার বর্ণনায় স্বয়ং মহান স্রষ্টা আল্লাহ-ই বলছেন, ' 'انک لعلی خلق عظیم۔'--

এমন মহামানবকে নিয়ে কে না জানতে চায়!
কে না চায় তাকে নিয়ে কিছু বলতে!
কে না চায় কিছু লিখতে !
কে না চায় তার তুচ্ছ কলমটাও ধন্য হোক সেই মহামানবকে নিয়ে দু'এক কলাম লিখে!
তাই তো শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদও চাইলেন না এমন সৌভাগ্য হাতছাড়া করতে। সে-মতে রচনা করে ফেললেন এক 'ব্যতিক্রমধর্মী' গ্রন্থ "كيف عاملهم" ( কাইফা আ'মালাহুম ) যার বাংলা অনুবাদ "যেমন ছিলেন তিনি ﷺ" নামে দুই খণ্ডে নিয়ে আসছে প্রিয় রুহামা পাবলিকেশন।

[ আরবি নামটার উচ্চারণে দেখলাম অনেকেই ভুলের শিকার হয়েছেন। তাই একটু ক্লিয়ার করছি। শব্দটি ( باب مفاعلة) থেকে অতীতকালীন অর্থবহ শব্দ, যার আক্ষরিক অনুবাদ করলে অর্থ দাড়ায়--' তিনি তাদের সাথে কেমন আচরণ করতেন'? ]

বইটি সাইয়্যিদুনা স. এর জীবনচরিতের বর্ণনা, যাকে আরবিতে 'সীরাত' বলা হয়। যদিও শব্দটি ব্যাপক, তবে সাধারণত তিনি ছাড়া অন্য কারো জীবনচরিত বর্ণনায় 'সীরাত' শব্দের ব্যবহার খুব একটা চোখে পড়ে না। সে হিসেবে 'সীরাত' বলতে কেবল তার জীবনীকেই বুঝানো হয়।

                      * 'ব্যতিক্রমধর্মী গ্রন্থ' কেন বললাম?
                ----------------------------------------------------------
গ্রন্থটি প্রচলিত অন্যান্য সীরাতগ্রন্থের মতো নয়। কেননা সীরাতগ্রন্থ বলতেই বুঝায়- তাঁর জন্মকালীন আরবের পরিবেশ, ভৌগলিক অবস্থান, ইতিহাস বর্ণনা, সাহাবাদের ইসলামগ্রহণের ঘটনা, তাদের কষ্ট সহ্য করার ঘটনা ইত্যাদি ইত্যাদি উল্লেখ, সাথে তার জীবনবর্ণনা-ও। শুধু 'তাঁর জীবনচরিত' নিয়ে কথা বলে না প্রচলিত সীরাত গ্রন্থগুলো। তবে এই গ্রন্থের মূল বৈশিষ্ট এখানেই। গ্রন্থটি বলেছে কেবল এবং একমাত্র প্রিয়নবীর কথা। নেই অন্য কোনো আলোচনা, অন্য কারোর কথা। শুধুই প্রিয়নবীর জীবনকথা, তাঁর আদর্শের বর্ণনা। শুধুই এবং শুধুই 'তিনি'ময় এই গ্রন্থ।

তিনি কী বলছেন, কীভাবে বলছেন, কেন বলছেন, কী করছেন, কীভাবে করছেন, কেন করছেন, কার সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন, কোন পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিচ্ছেন--ইত্যাদি সব জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়াদি বলে বলেই ধাপে ধাপে এগিয়েছে বইটি।

রাসূলে কারীম স. এর জীবনকে ইতিহাস ও জ্ঞানের জগতের বিশুদ্ধতম উৎস 'হাদিসভাণ্ডার' থেকে মুগ্ধময় বিন্যাসে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে গ্রন্থটিতে।

বাংলাভাষায় মৌলিক ও অনূদিত মিলিয়ে যত সীরতগ্রন্থ প্রাকাশিত হয়েছে, সবগুলোর মাঝে ‘যেমন ছিলেন তিনি’ আপন গুণে অদ্বিতীয়।

                            * গ্রন্থটির অনন্য কিছু বৈশিষ্টঃ
      ----------------------------------------------------------------------

 সহীহ ও হাসান পর্যায়ের হাদীসের মাধ্যমেই নবীচরিতের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে পুরো বইটিতে। এর বাইরে মৌলকভাবে কোনো দলিল আনা হয়নি।

 বিরাট কলেবরের পুরো বইটা জুড়ে কেবল তাঁকে নিয়েই কথা বলা হয়েছে। বইয়ের পরতে পরতে ছুঁয়ে গেছে তার পবিত্র জীবনচরিতের কথা।
একের পর এক বিশুদ্ধ হাদিস ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করে লেখক প্রিয়নবীর জীবনাচার তথা সুন্নাহর অসংখ্য দিককে মুহাদ্দিসসুলভ প্রজ্ঞা ও দক্ষতায় আলোকিত করে তুলেছেন পাঠকের সামনে।

 প্রতিটি আলোচনায় কেবল হাদীসসমূহ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং কাঁধে থলে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন হাদীসের ব্যখ্যাগ্রন্থগুলো থেকে মহামূল্যবান মণিমুক্তা কুড়াতে। এরপর সেগুলোকে এনে বসিয়ে দিয়েছেন হাদীসের ব্যখ্যায়। পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন হাদীসের মর্ম। দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের জন্য আমল করার নিয়মনীতি।

 সূচিপত্র এত হিকমাতের সাথে করা হয়েছে, যে কেউ বইটির কেবল সূচি পড়লেই রাসূলে কারীম স. এর জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র পেয়ে যাবে। সাথে পাবে নিজের চলার পথের পাথেয়।

 অধ্যায় থেকে ছোট পরিসরে পরিচ্ছেদ- পরিচ্ছেদ থেকে আরো ছোট হয়ে পর্বে- পর্ব থেকে আরো বেশি ছোট ছোট হয়ে শিরোনাম। পয়েন্টভিত্তিক এই বিন্যাসেই সাজানো হয়েছে পুরো বইটি। যা পাঠক মনে বিষয়বস্তুর পরিষ্কার চিত্র আকতে সাহায্য করে। পয়েন্টভিত্তিক এত সুন্দর আলোচনা মনের অজান্তেই স্মৃতিপটে গেঁথে যায়।

       প্রয়োজনীয় তাহকীক ও তাখরীজ করা হয়েছে।

       
                                       লেখক পরিচিতিঃ
                                --------------------------------------

শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ (হাফিজাহুল্লাহ) নতুন করে পাঠক মহলে পরিচয় করানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। তবে তার লেখনির বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট জেনে নিতে পারি আমরা--
পয়েন্টভিত্তিক সংক্ষিপ্ত ও সাজানো আলোচনা, কুরআন সুন্নাহর প্রমাণনির্ভর দালিলিক উপস্থাপন, কুরআন সুন্নাহর ব্যখ্যা হিসেবে সালাফদের মুখনিঃসৃত মূল্যবান বাণির উল্লেখ-- তার লেখনির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

   
                                 বইয়ের সাজসজ্জাঃ
                           ----------------------------------------

দুই খন্ডে প্রকাশিত গ্রন্থটিকে সাজানো হয়েছে মোট ছয়টি অধ্যায়ে। প্রতি খন্ডে তিনটি করে অধ্যায়।

প্রথম খন্ডের অধ্যায় তিনটি হলো-
➤প্রথম অধ্যায় - জগৎবাসীর আদর্শ।
➤দ্বিতীয় অধ্যায় - পরিবার, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সাথে রাসূলের আচরণবিধি।
➤তৃতীয় অধ্যায় - সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে রাসূলের আচরণবিধি।

দ্বিতীয় খন্ডের তিনটি অধ্যায়-
➤চতুর্থ অধ্যায় - দাওয়াতের আওতাভুক্ত বিশেষ বিশেষ শ্রেণির সঙ্গে রাসূলের আচরণবিধি।
➤পঞ্চম অধ্যায় - সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে রাসূলের আচরণবিধি।
➤ষষ্ঠ অধ্যায় - মানুষ-ভিন্ন অন্যান্ন সৃষ্টির সঙ্গে রাসূলের আচরণবিধি।

আর প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে আছে ছোট ছোট অনেক পরিচ্ছেদ।
 যেন লেখক রাসূলে কারীম স. এর জীবনের চিত্র সামনে নিয়ে বসেছেন এবং আমাদেরকে এই বলে বলে 'তাঁকে' নিয়ে পড়াচ্ছেন--
'জানো, আমাদের প্রিয়নবী সারাটাদিন কীভাবে কাটাতেন? তিনি ঘরে থাকলে কীভাবে কী করতেন? আত্মীয়দের সাথে কেমন আচরণ করতেন? ছোটদের সাথে কেমন করতেন? বড়দের সাথে আচরণ কেমন ছিল তার? সন্তানদের সাথে, নাতিদের সাথে, মেহমানদের সাথে, বিশিষ্ট সাহাবীদের সাথে, স্ত্রীদের সাথে, দাসদাসীদের সাথে, প্রতিবন্ধীদের সাথে কেমন আচরণ করতেন তিনি '?
  মোট কথা, মানুষের জীবনের প্রতিটি পদে পদে যা যা করতে হয়---সবই তিনি রাসূলের জীবন থেকে অনুসন্ধানী চোখে খুটেখুটে বের করেছেন এবং আমাদের সামনে পেশ করেছেন 'আদর্শ' হিসেবে।

               কেমন হতে পারে রুহামার নতুন এই সন্তান?
      ----------------------------------------------------------------------
যারা রুহামার নিয়মিত পাঠক, তাদেরকে তো নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছি না। গুণগত মানে রুহামা সবসময়ই উপরের সারিতে। দক্ষ অনুবাদক, অভিজ্ঞ সম্পাদক সহ আরো অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে যথাসাধ্য চেষ্ঠায় পাঠযোগ্য করে তারা বইগুলো বাজারে আনে। ফলে তাদের কাজই পাঠকের মনে ভালোবাসার বীজ বুনে দেয়। তাছাড়া আব্দুল্লাহ ইউসুফ দা. বা. এর কয়েকটি অনুবাদগ্রন্থ পড়ার সুযোগ হয়েছে আমার। সবগুলো কাজই ছিল সন্তুষজনক। তার উন্নত শব্দচয়নে শিখার থাকে অনেক কিছু। পাঠককে বইয়ে টেনে রাখতে পারেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বইটি আমাদের 'পরিচিত রুহামা'র বিপরীত হবে না বলে আশাবাদী।

||সংক্ষিপ্ত তথ্য||
বই: যেমন ছিলেন তিনি
 মুলগ্রন্থ: কাইফা আ'মালাহুম
 রচনা: শায়খ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
 অনুবাদ: আব্দুল্লাহ্ ইউসুফ
 সম্পাদনা: মুফতি তারেকুজ্জামান
 প্রকাশনা: রুহামা পাবলিকেশন
 মুদ্রিত মূল্য: প্রথম খণ্ড ৮০০ টাকা
                   দ্বিতীয় খণ্ড ৫৪০ টাকা
 পৃষ্ঠা সংখ্যা: প্রথম খণ্ড ৬৮০ পৃষ্ঠা
                    দ্বিতীয় খণ্ড ৪৭২ পৃষ্ঠা