বুক রিভিউ

বই : ‘বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর’

লেখক : মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ


প্রকাশক : সিয়ান পাবলিকেশন

ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, ‘একে অন্যকে ভালোবাসে এমন দুজনের জন্য বিয়ের মতো উত্তম আর কিছু আমি দেখি না।’ (ইবনে মাজাহ, অধ্যায়: বিয়ে, হাদীস নং- ১৮৪৭)

বিয়ে সম্পর্কিত পড়া এটাই আমার প্রথম বই। কিন্তু মাত্র ৬২ পৃষ্ঠার বইটাতে লেখক সত্যিই সুন্দরভাবে জীবনসঙ্গিনীর প্রেমে বারবার পড়ার মন্ত্র সাবলীলভাবে বলেছেন।

আসলে শুধু লাইফ পার্টনার না, লেখক এমন অনেক পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলো পরিবার পরিজন এমনকি বন্ধু-বান্ধবিদের সাথেও প্রয়োগ করা যায় বা করা উচিত।

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার মন্ত্র গুলো লেখক যখন আলোচনা করছিলেন তখন সত্যিই খায়েশ জন্মাচ্ছিল ৩০ বছর পরেও যেন আমি আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রেমে পড়তে পারি।

সুখী দাম্পত্য জীবনে কী কী ভূমিকা রাখে এমন প্রশ্নে লেখক মোটামুটি তিনটি বিষয়ে ফোকাস করতে চেয়েছেন তা হলো-

  ১- সত্যবাদিতা
  ২- যত্নবান হওয়া
  ৩- পারস্পরিক সম্মানবোধ

এছাড়াও অনুরাগ প্রকাশে পাগলামি করা। উপহার দেয়া। শুধু মেয়েরা না, ছেলেরাও যে উপহার পেলে খুশি হয় এবং বরং মেয়েদের তুলনায় বেশি খুশি হয় সেটাও হয়ত অনেকের ভাবনাতেও থাকে না।

বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর বইতে লেখক মূলত ২০ টি প্রশ্নের উত্তরের উপর আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে আরো একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আমার কাছে লেগেছে যে, দুজনার একটা ভাষা তৈরি করে ফেলা।

‘যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে তাদের আপনি দেখবেন যে, তারা হয়ত কোনো বিষয় নিয়ে মুচকি হেসে যাচ্ছে, কী কারণে তারা দুজন হাসছে তা কেবল তারাই বুঝতে পারে। হয়তো দেখবেন তারা এমন একটা ভাষায় কথা বলছে যা কেবল তারাই বুঝতে পারছে। তাদের কথাগুলো হয়তো অন্যদের কাছে একেবারেই সাধারণ মনে হয়, কিন্তু তা তাদের পরস্পরের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এটা যদি আপনি গড়ে তুলতে পারেন তাহলে ৩০ বছর পরেও দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে প্রেমে পড়বেন বারবার।’

এ বিষয়টা লিখতে গিয়ে লেখকের আরো একটা উক্তিও অবশ্য মনে পড়ে গেল,

‘আমি প্রায়ই বলি, ‘ঝগড়াটে কাউকে বিয়ে করার চেয়ে একটি ঘোড়া কেনা ভালো; ঘোড়াটি অন্তত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে আনতে পারতো।’ ‘ঝগড়াটে’ একটা উভয়লিঙ্গ শব্দ; নারী বা পুরুষ উভয়ের খেত্রেই প্রযোজ্য।’

আমার কাছে মনে হয়েছে অল্প কলেবরের বইটিতে লেখক অত্যান্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন দাম্পত্য নিয়ে। যদিও আমার মনে হয়েছে দাম্পত্যের বাইরেও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গুলোর খেত্রেও বইয়ের নাসিহা গুলো মূল্যবান মুক্তোর মত।

লেখক মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের সম্পর্কে বলতে গেলে এটা আমার পড়া তার প্রথম বই। তবে তার প্রথম বই পড়েই আমি মুগ্ধ হয়েছি সত্যি। প্রকাশকের কথা থেকে লেখকের পরিচয় টুকলে বলতে হয়,

‘মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের জন্ম প্রাচ্যে। জীবনের বড় একটা অংশ পশ্চিমে কাটিয়েছেন। কর্পোরেট জগতের বহু ডাকাবুকোর গুরু তিনি। ইসলামের আলোয় আলোকিত এ মানুষটি এমন এক চশমা দিয়ে দুনিয়াটাকে দেখেন যার জুঁড়ি নেই। আদর্শিক পা হড়কানো থেকে উদ্ভূত সমস্যাগুলোকে তিনি ঝানু ব্যাবসায়ীর চোখ দিয়ে দেখেন, ব্যবচ্ছেদ করেন। এরপর ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান সাধেন।’

এবার আসি প্রকাশনীর কথায়। সিয়ান পাবলিকেশন সম্পর্কে কিছু বলার নেই আসলে। আজ যে এত সুন্দর সুন্দর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা কনটেন্ট আর নজর কাড়া লুক পৃষ্ঠা বিন্যাস, সুন্দর সাবলীল বানান এবং রুচিশীল শব্দচয়ন ইসলামী প্রকাশনী-বইয়ে আমরা দেখি তার অনেক অবদান সিয়ান পাবলিকেশনের। যার সুচনাটা হয়েছিল তাদের হাত দিয়েই। 

সত্যি বলতে অনুবাদ পড়ার সময় মনেই হয়নি আমি অনুবাদ পড়ছি। আল্লাহ সিয়ানের কাজে আরো বারাকাহ দ্বান করুন। আমার ব্যক্তিগত রেটিং যদি সার্বিকভাবে দেই বইটা সম্পর্কে তাহলে বলতে হবে, সুন্দর প্রচ্ছদ সুন্দর অনুবাদ অসাধারণ কিছু নসিহা যা বইটা পড়ে শেষ করার পর বাস্তব জীবনে এ্যপ্লাই করতে ইচ্ছে করবে। তাই আমার রেটিং- ৯.৪/১০

‘বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর’ পড়ার পর আমি উপহার লিস্টে বইটা যুক্ত করেছি। আমার পরিবারের সদস্যদেরকেও যারা বিয়ের উপযুক্ত হয়েছে বা বিয়ে করেছে তাদেরও বইটা উপহার দেয়ার নিয়াত করেছি। শুধু তো দাম্পত্য নয় পরিবারের সকলের সাথে সম্পর্কটা পোক্ত করা প্রয়োজন। আমার অনুরোধ থাকবে বইটা ছেলে-মেয়ে সকলের পড়ার এবং উপহার দেয়ার...