#বই_রিভিউ
বই : প্রিয়তমা
লেখক :সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর
প্রকাশনী :নবপ্রকাশ
প্রচ্ছদ ধারণা:কাজী যুবাইর মাহমুদ
প্রচ্ছদ সূচীশৈলী : রাবেয়া আফরোজা
পৃষ্ঠা সংখ্যা:৩৫২
মুদ্রিত মূল্য :৫২০৳

লেখক পরিচিতি:
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর এর পাঠ্য বিষয় মূলত ইতিহাস। ইতিহাস প্রেমী এই মানুষ পাঠ্যবিষয়কে শুধু মুখস্ত বিদ্যাতে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তৈরি করেছেন ইতিহাস বর্ণনার অভিনব ও মনোমুগ্ধকর কৌশল। সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষার ব্যবহার তার লেখনির ধারাকে করেছে আকর্ষণীয়। ফলে খুব সহজেই পেয়েছে পাঠক প্রিয়তা।
বর্তমানে মুক্ত পৃথিবীর মানুষ হিসেবে তাঁর একমাত্র কাজ লেখালেখি।

বইয়ের পাতা থেকেঃ
এক ঈশ্বররে পরিবর্তে যখন কাবা চত্বরে বসানো হয়েছে ৩৬০ দেবমূর্তি, খ্রিস্টান এবং ইহুদী ধর্ম যখন তার মূল উৎস হারিয়ে ফেলেছে, কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে মূসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ) এর আনিত অনেক পয়গাম তখনও খাদিজা (রাঃ) বিশ্বাস রেখেছেন এক ঈশ্বরের উপর।
তিনি অপেক্ষা করেছিলেন শেষ নবীর, কিন্তু কেন? কিভাবে তিনি জানলেন শেষ নবীর আগমন সম্পর্কে, জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে প্রিয়তমা বইটি।

কুরাইশ রাজ কুমারী খাদিজা (রাঃ) দ্বিতীয় বৈধব্যের পর তাঁর কাছে এমন কি আগমন বার্তা আসল যে অপেক্ষা করতে লাগলেন মুহাম্মদের (সঃ)।
মুহাম্মদের অপেক্ষায় খাদিজা (রাঃ) ব্যাকুল হয়ে থাকতেন, সারাক্ষণ ভাবতেন কোথায় পাব তাঁর খোঁজ... অবশেষে তাঁর অপেক্ষার অবসান ঘটে। কিন্তু কিভাবে? কিভাবেই বা বিবাহ হলো ২৫ বছরের এক যুবকের সাথে ৪০ বছরের এই নারীর? !

এটা কোন গল্প নয়, নয় কোন রূপকথা। খাদিজা (রাঃ) নিজের স্বর্বশ দিয়ে আগলে রেখেছিলেন মুহাম্মদ (সঃ) কে, নবুয়াতের ভীত ও কঠিন দিন গুলোতে রাসুল (সঃ) কে শিশুর মতো আগলে রেখেছেন তিনি।
খাদিজা (রাঃ) সে তো অনন্য এক মহিয়সী নারী। তাঁর গর্ভে এসেছিলেন রাসূলের প্রথম পুত্র কাসিম, কিন্তু কোথায় এই কাসিম, কি হয়েছিল তাঁর?
এছাড়াও পুত্র আব্দুল্লাহ সহ জয়নব, রোকাইয়া, কুলসুম ও ফাতেমা (রাঃ) কে জন্ম দেন খাদিজা (রাঃ)। রাসূল ও খাদিজার (রাঃ) জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক তথ্যই পাবেন প্রিয়তমা বইটিতে।

খাদিজার (রাঃ) মৃত্যুর সময় রাসূলের বয়স ৫০। জীবনের শেষ প্রহরে দাঁড়িয়ে কেনই বা তিনি বিবাহ করলেন ৫০ বয়সী বিধবা নারী সওদা (রাঃ)। রাসূল (সঃ) সওদা (রাঃ) কে বিয়ে করার পাশাপাশি আবু বকর (রা:) এর ৬ বছরের শিশু কন্না আয়েশা (রা:) কে বাগদান করেন এবং ৯ বছর বয়সে বিয়ে করেন। কিন্তু কেন? কেমন ছিল সদ্য কৈশোরে পা দেয়া আয়েশা (রাঃ) ও রাসূল (সা:) এর দাম্পাত্য জীবন?
আপনার মনের জানা অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন প্রিয়তমা বইটিতে।

ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের বাড়িতে আয়োজন করা হলো রাসূল (সাঃ) ও উম্মে হাবিবার বিয়ে। অন্যদিকে রাসূল (সাঃ) ইহুদী রাজকুমারী সাফিয়া (রাঃ) কে বরণ করে নিলেন উম্মুল মুমেনিন হিসেবে।
এই সকল বিয়ের পিছনের চাঞ্ছল্যকর তথ্য গল্পের আদলে পাবেন প্রিয়তমা বইটিতে।

সূরা আহযাবের ৩৭ নাম্বার আয়াতে রাসূলকে নির্দেশ দেয়া হয় পালক পুত্র জায়েদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী জয়নব (রাঃ) কে বিয়ে করার জন্য। বিবাহ পরবর্তিতে রাসূল (সাঃ) এর সাথে কেমন ছিল পালক পুত্র জায়েদ ও স্ত্রী জয়নব এর সম্পর্ক?

ক্রীতদাসী মারিয়া (রাঃ) এর গর্ভে রাসূলের পুত্র ইব্রাহীম। কিন্তু কে এই ক্রীতদাসী মারিয়া (রাঃ)? কেনইবা মারিয়া (রাঃ) এর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হলেন রাসূল (সাঃ)? কোথায় গেল সেই পুত্র ইব্রাহীম ইবনে মুহাম্মদ? রাসূল ও ক্রীতদাসী মারিয়া (রাঃ) সম্পর্ককে বৈধতা দিয়ে ও মারিয়া (রাঃ) সম্মান সুউচ্চ সূরা তাহরিমা অবতীর্ণ হয়। সূরা তাহরিমার মাধ্যমে আল্লাহ পৃথিবীকে কি নির্দেশ দিয়েছেন। এই সব কিছুর উত্তর পাবেন সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীরের প্রিয়তমা বইটিতে।

মন্তব্যঃ
প্রিয়তমা রাসূল পত্নীদের জীবনী গ্রন্থ নয় বরং তাদের জীবনের গল্প ভাষ্য। প্রিয়তমা বইটির নামের মাঝেই প্রকাশ পেয়েছে এর অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য। সত্যি কথা বলতে বইটির ভাষা ও বর্ণনার ধরণ এতটাই মনোমুগ্ধক্র যে আপাত দৃষ্টিতে বইটির কোন ভুল চোখে পড়েনি। প্রিয়তমাকে যদি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করি তাহলে কোন ভুল হবে না।
সর্বোপরি সবাইকে বইটি পড়ার আমন্ত্রণ। শুধু নিজেই পড়বেন না, নিজে পড়ুন ও নিজের প্রিয়ত্ম/প্রিয়তমাকে পড়তে দিন। প্রিয় মানুষের আলোয় আলোকিত হোক সকলের জীবন।

বইটি কিনতে যোগাযোগ করতে পারেন নিচের লিংকেঃ