বইঃ ফজর আর করবো না কাযা।
লেখকঃ ড. রাগিব সারজানি।
অনুবাদঃ আবু মুসা ওসমান।
প্রকাশনাঃ মাকতাবুল হাসান

[ এক ]

অফিসের নির্দিষ্ট সময় ৯ টায় আপনাকে এটেন্ডেন্স দিতে হয়। আপনার বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব ২ ঘন্টার পথ। তাহলে অবশ্যই আপনাকে ঘুম থেকে আরো ১ ঘন্টা আগে জাগতে হবে। ফ্রেশ হওয়া, নাস্তা খাওয়া, অফিসের জন্য তৈরী হতে ১ ঘন্টা সময় লাগবে। তাহলে আপনাকে ঘুম থেকে জাগতে হবে সকাল ৬ঃ০০ টায়। মাসে হয়তো ২/১ দিন অফিসে কিছু সময় দেরি হতে পারে। কিন্তু সর্বোচ্চ তিন দিনের বেশি দেরি হলে কোম্পানি আপনার কাছ থেকে ১ দিনের সমপরিমাণ বেতন কর্তণ করবেন এটাই নিয়ম। আর জবাবদিহি তো আছেই। তাই নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পোঁছানোর জন্য কত সময় হাতে নিতে হয়। যা একমাত্র দুনিয়ার জন্য। আপনি কত ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

কিন্তু একবার চিন্তা করুন। মহান রাব্বুল আলামিনের আদেশ ফজরের নামাজ জামায়াতে আদায় করতে হবে। যার প্রতিদানে রয়েছে আল্লাহর নেয়ামত। আমরা সে আল্লাহর হুকুম পালন করতে কতটা কার্পণ্য করে যাচ্ছি। আর দুনিয়ার কাজের জন্য, মানুষের কাছে জবাবদিহি করার ভয়ে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়ে যায়। সেখানে ফজর নামাজে কত বেখেয়াল। আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় আমাদের নেই। আপসোস!

[ দুই ]
বাসায় আগুন লেগেছে, আপনার স্ত্রী এসে বললো দ্রুত বাসা থেকে বের হতে হবে। আর বাচ্চাদের সেভ করতে হবে। দ্রুত ঘুম থেকে উঠো। কিন্তু আপনি তখন গভীর ঘুমে আছেন। তখন কি করবেন?আপনি কি বলবেন, যাও আমার প্রচুর ঘুম, খুব ক্লান্তি লাগে আরেকটু ঘুমায়! এমনটি কিন্তু বলবেন না। নিজের ও নিজের পরিবারকে আগুন থেকে বাঁচাতে খুব দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন । এই দুনিয়ার আগুন থেকে বাঁচার জন্য আপনি মরিয়া হয়ে উঠেন।

কিন্তু জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য আপনি ফজরের জামায়াতে শামিল হতে পারেন না! দুনিয়ায় আগুনের চেয়ে জাহান্নামের আগুন ৭০ গুন উত্তপ্ত। তাহলে একবার ভাবুন, এই দুনিয়ার আগুন আপনি সহ্য করতে পারেন না। তাহলে জাহান্নামের আগুন কিভাবে সহ্য করবেন। তাই জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই ফজরের নামাজ জামায়াতে আদায় করতে হবে।

[ তিন ]

💟ফজরের নামাজ জামায়াতে আদায় করার ফযিলত সমূহ 💟

এই পর্যায়ে আপনাদের সামনে সংক্ষেপে উল্লেখ করবো ফজরের নামাজ জামায়াতে আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য কি কি পুরস্কার অবধারিত করেছেন।

১. অর্ধেক রাত জেগে ইবাদত করার সমান নেকী পাওয়া যায়।
২. কেয়ামতের ঘোর অন্ধকারে কুদরতি নূর প্রাপ্তি।
৩. জান্নাত লাভে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি।
৪. জান্নাতের চেয়েও মহান নেয়ামত ( আল্লাহর সান্নিধ্যে) লাভ।
৫. ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছু থেকে উত্তম।
৬. ফজরের তেলোয়াতে ফেরেশতাদর সমাবেশ ঘটে।
৭. সারাদিন আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকে।
৮. ফজর ইলম ও ঈমান চর্চার সেমিনার।
৯. অর্ধেক জীবনের গুনাহ মাপ।
১০. ফজরের প্রতিটি প্রদক্ষেপ আসমানী বরকত।
[ চার ]

💟ফজর নামাজ জামায়াতে আদায় করতে কিছু করণীয়💟
নিন্মে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলোঃ

ফজরের নামায যথাসময়ে আদায়ে সহায়ক ১০ টি উপায়ঃ

১. আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ হনঃ আল্লাহ পাকের যথাযোগ্য
মর্যাদা হৃদয়ে ধারণ করুন।
২. ফজরের নামায আদায়ের দৃঢ় সংকল্প করুন; প্রতিদিন নিজের
আমলের মুহাসাবা করুন।
৩. আপন গুনাহ হতে তাওবা করুনঃ, গুনাহমুক্ত জীবন গড়ারমজবুত প্রতিজ্ঞা করুন।

৪. আল্লাহ যেন আপনাকে ফজরের নামাযের অমূল্য সম্পদ নসীবকরেন, এজন্য প্রচুর দোয়া করুন।

৫. সৎ-সঙ্গ ও সৎ লোকদের সাহচর্য অবলম্বন করুন।

৬. সুন্নাত পদ্ধতিতে ঘুমানোর চর্চা করুন। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া।
(আগে আগে শুয়ে পড়ল, ওযুর সঙ্গে ঘুমান, ডান কাতে শয্যাগ্রহণকরুন, নিদ্রা সংক্রান্ত দোয়া সমূহ পাঠ করুন এবং অন্যদেরকে নিজেরনতুন মুদ্রানীতি অবহিত করুন।)

৭. নিদ্রার পর্বে অধিক আহার করবেন না, রাতে চা-কফি ইত্যাদি উত্তেজক পানীয় পরিহার করুন।

৮. ফজরের নামাজের ফজিলত সম্বলিত বিভিন্ন হাদীস ও বাণী কার্ডলিখে আপনার কামরায় সেঁটে দিন।

৯, অ্যালার্ম ঘড়ি, টেলিফোন ও কলিং বেল-এই তিন সতর্কধ্বনিরসহায়তা গ্রহণ করুন।

১০, অন্যকেও ফজরের নামায আদায়ে উদ্বুদ্ধ করুন, শুরু করুন নিজপরিবার হতে।

⛔ [ আমল করার সুবিধার জন্য রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। তাই এসব আয়াত ও হাদিস সমূহ দেখে নিবেন। ] ⛔
[ পাঁচ ]

💟এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখি।💟

আমি সেই দিনটির স্বপ্ন দেখি-------

☑ যেদিন মুসলিম জনপদের প্রতিটি মসজিদ মুসল্লিতে পবিপূর্ণ দেখবো।

☑ যেদিন উম্মাহর প্রতিটি সদস্য প্রবল আগ্রহ নিয়ে ফজরের আযানের প্রতীক্ষা করবে।

☑ যেদিন সকলে মুয়াযযিনের সঙ্গে আযানের কালিমাগুলো পুনরাবৃত্তি করবে:
আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হবে সকলের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর --আসসালাতু
খাইরুম মিনান নাউম। নিদ্রা হতে নামায উত্তম।

☑ যেদিন সকলে অস্থিরচিত্তে ছুটে যাবে আল্লাহর ঘরের দিকে। প্রত্যেকের মনেই
মাহবুবের শিক্ষালাভের দুর্নিবার আকর্ষণ।

আমি এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখি-----

☑ যেদিন একজন মুসলমানের মাত্র এক দিনের ফজরের নামায ছুটে গেলেও
তাকে দেখতে পাব বিষণ্ন ও ব্যথিত; যেন হারিয়ে ফেলেছে বিরাট কিছু।
পৃথিবী ও পৃথিবীর মধ্যকার সবকিছুর চেয়েও বড় কিছু।

☑ যেদিন মুসলিম বিশ্বের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তের সকল দেশের মুসলিম
নেতাদের দেখব ফজরের নামায ও অন্যান্য নামাযে মসজিদে ইমামতি করছেন।

☑ যেদিন আল্লাহর দ্বীন হবে পৃথিবীর ধর্ম, আল্লাহ-প্রদত্ত শরীয়ত হবে জগতের একমাত্র শরীয়ত।

☑ যেদিন জুলুম ও অন্যায়ের কাল বিলুপ্ত হবে; ন্যায় ও ইনসাফ, কল্যাণ ও সুবিচার, নূর ও আলোর কাল সূচিত হবে।আমি এ সবকিছুরই স্বপ্ন দেখি। আমি জানি, আজ আমি যা-কিছুর মাঝে জীবনযাপন করছি, একদিন তাও স্বপ্ন ও কল্পনা ছিল। আমি এও জানি এবংবিশ্বাস করি, আজ যা স্বপ্ন ও কল্পনা, আগামী দিন তাই হবে চাক্ষুষ বাস্তব, ইনশাআল্লাহ!

আমি এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, হয়তো আমি তা স্বচক্ষে দেখে যাব। [ ড. রাগিব সারজানি ]

রিভিউ লেখকঃ @Raihan bin Answar