#রিভিউ_
বইঃ কবরের অবস্থা
মূল লেখকঃ মাওলানা ইদরিস কান্ধলিব রহ.
অনুবাদকঃ মুফতি মুহীউদ্দীন আহমাদ রহ.
প্রকাশনায়ঃ মাকতাবাতুল ইসলাম
মুদ্রিত মূল্যঃ ১২০ টাকা মাত্র

পৃথিবীঃ
এটি একটি অস্থায়ী ও অনিত্য জগত বা শুধু চলাচলের রাস্তা ছাড়া কিছুই নয়। একে একটি পুলের সাথে তুলনা করা যায়। এর উপর দিয়ে অতিক্রম হয়ে যাও, কিন্তু অট্টালিকা নির্মাণ করতে যেও না। মূল গন্তব্য পরবর্তী জীবন। এই পার্থিব জীবনের শুরু দোলনা আর শেষ সীমা কবর। তার পরের জীবন অনন্তকাল...
মৃত্যুঃ
কোন কিছু না থাকা বা অবলুপ্তিকেই মৃত্যু বলা ঠিক না বরং শরীর থেকে রুহ বিছিন্ন হওয়ার নামই মৃত্যু।
মৃত্যুর প্রবর্তনঃ
যখন আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠাতে চাইলেন ফেরেশতারা আরজ করলেন হয়ে আল্লাহ এই মানবের তো দুনিয়াতে সংকুলান হবে না। আল্লাহ তখন বললেন আমি তাদের জন্য মৃত্যুও তৈরি করবো। মালাকুল মাউত তাদের রুহ কব্জ করবে। তার কাছে গোটা পৃথিবী একটা পেয়েলার মতো। সে যখন যেখান থেকে ইচ্ছা মানবের রুহ কব্জ করতে সক্ষম হবে। ফেরেশতারা তখন বললো তাহলে তো জীবনের কোন স্বাদই থাকবে না। আল্লাহ তখন বললো আমি আশা-আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে দিব যাতে আদমরা তার পিছনে ছুটতে থাকে।
মৃত্যুর সময় কি পাঠ করা উচিৎ?
মৃত পথ যাত্রীর সামনে যারা বসে থাকে তাদের উচিৎ সূরা ইয়াসিন তেলোয়াত করা এতে মৃত্যু সহজ হয়। হাদিসে আছে এমন অবস্থায় মেসওয়াক করলেও মৃত্যু সহজ হয়। আর মৃত আসন্ন অবস্থায় কলেমা পাথে মৃত্যু হলে জান্নাত নসিব হবে। হাদিসে আছে কুরআন তিলোয়াত মাথার দিকের আজাব, নামাজ ডান দিকের আজাব, রোযা বাম দিকের আজাব, সদকা-ভালো ব্যবহার, মসজিদে গমন পায়ের দিকের আজাব প্রতিহত করবে।
মুমিন মৃত ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর অন্য মুমিনদের রুহ এসে দুনিয়ার হালহাকিকত ও অন্য পরিচিতদের কথা জিজ্ঞেস করবে। মৃত ব্যক্তি কোন আমল করতে পারে না তবে জিবিতদের প্রেরিত আমলের সওয়াব পায়।
কবরের আজাব লাঘবের উপায়ঃ
ঘুমানর আগে তওবা করা, সূরা মূলক, আলিফ লাম তানযিল তেলওয়াত করা,রোজা রাখা ও রাতের অন্ধকারে নামাজ আদায় করা, মসজিদ আলোকিত ও সুঘ্রাণ করা ইত্যাদি।
খাতিবা বিল খায়েরের লক্ষণঃ
ভালো মৃত্যুর পুরবে আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুর কিছুদিন পূর্ব থেকে তার অন্তরে আল্লাহর বিধানের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলেন এবং দুনিয়ার প্রতি ঘৃণা ও বিমুখিতা জাগিয়ে দেন।
কবরের আজাব সম্পর্কে নাস্তিকদের ধারণাঃ
তারা বলে কবর খুঁড়ে লাশ যেভাবে দাফন করা হয়েছিল তেমন ই পাওয়া যায় কোন শাস্তির চিহ্ন নেই। এক্ষেত্রে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দেখাতে পারেন যাকে ইচ্ছা নাও দেখাতে পারেন। ঘুমের ভিতর স্বপ্নে মানুষ কতকিছু দেখে অথচ তার পাশের জন কিছুই দেখে, না, শুনে না। এই গোপনীয়তা কেন? যাতে না দেখেই মানুষ বিশ্বাস করে, যাকে ঈমান বিল গাইব বলা হয়।

কবরের আজাব কি সকল উম্মতের ক্ষেত্রেই হবে? মুসলিম বা অন্য ধর্মের ছোট শিশুরাও কি আজাবের মধ্যে দিয়ে যাবে? কবরের সাওয়াল পর্ব কতদিন চলে? ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পড়ে ফেলুন বইটি।

মুমিনের জন্য মৃত্যুই শ্রেয়। এর দ্বারা সে আল্লাহর নিকটবর্তি হয়। মুমিন ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আল্লাহর তরফ থেকে সালাম পৌঁছে দেয়া হয়। কিন্তু হায়! বর্তমানে কতজন আমরা পরকালকে সামনে নিয়ে চলি?
আপনি জানেন কি মৃত্যুর পরও আমল নামায় সওয়াব পাওয়া সম্ভব ১০ টি কাজের দ্বারা?
১/সদকায়ে জারিয়া
২।উপকারি ইলম
৩।নেক সন্তান
৪। ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী
৫। উত্তরাধিকারী সম্পত্তিতে কোরআন শরীফ, হাদিস ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ
৬। মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ
৭।মুসাফিরখানা নির্মাণ
৮। কূপ ও খাল খনন
৯। খেজুর বৃক্ষ রোপণ
১০। কোন সুন্নত জারি করে যাওয়া।
বর্তমানে আমারা ছুটছি ঘোড়ার মতো-দুনিয়ার পিছনে, ধন সম্পদের মোহে, নারী আসক্তিতে, ক্ষমতার লোভে-ক্ষমতার পিছনে...একটু ভেবে দেখেছি জীবনটা কয়দিনের? কবরের অন্ধকার জীবনে কিভাবে দ্বীনি প্রশ্নের উত্তর দিব? পরকালে কি নিয়ে দাঁড়াবো?
পরিশেষে কুরআনের আয়াত দিয়ে শেষ করতে চাই-"যারা শাশ্বত বানীতে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং যারা যালিম আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্তিতে রাখবেন। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।"
বইটি কিনতে যোগাযোগ করতে পারেন নিচের লিংকঃ